ছোট গল্প :”বিকেলের সোনা রোদ”

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :-
ভর দুপুরে কাদা মাখা শরীর আর বিষন্ন মনে ঘর্মাক্ত অবস্তায় মেহের আলি বাড়িতে আসে, স্ত্রী-সন্তানদের কিছু না বলেই ছাপড়া ঘরে পাতানো বিছানা বিহীন কাঠের চৌকিতে শুয়ে পড়ে। লিকলিকে শরিরে প্রায় প্রতিদিন রোদে কাজ করতে করতে সমস্ত শরীরের রং কালো হয়ে গিয়েছে। চোখে মুখে হতাসার কালো ছায়া, ধুলা বালি আর ঘামে ভেজা গামচাটা কাঁধের উপর থেকে কোমর পর্যন্ত ঝুলে আছে, জমির কাজটা শেষ করতে পারে নাই মেহের আলি। জমিতে নামলেই মেহের আলির সেই সোনালি দিনগুলির কথা মনে পড়ে যায়। সেইতো বেশি দিনের কথা নয়,যখন নিজের হাতে ফলানো ফসলের মাঠের কিনারে দাড়ালে বুকটা ভরে উঠত ভরপুর ফসলের গন্ধে। কখনো কখনো বউকে সাথে নিয়ে পুর্ণিমা রাতে চাঁদের আলোতে নিজের ফসলের মাঠে গুরে আসত মেহের আলি। বউয়ের আদর থেকে কখনো বঞ্চিত হয় নাই মেহের আলি, ভালবেসে বিয়ে করা বউও মেহের আলিকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশী ভালবাসত, বউকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে তাই জড়িয়ে ধরে আবেগের সুরে অনেক কথা বলতে বলতে জীবনের অনেক সময় গড়িয়ে গেছে মেহের আলির তা টেরই করতে পারে নাই তাই সময় নিয়ে ভাবে না আর ভাবার সময় সুযোগই বা কোথায়। দুক্ষ-কষ্টর সময় ও ছেলে মেয়েদের নিয়েই দিন কাটে। স্বপ্ন দেখে নিজেকে নিয়ে, অনেক সময় ফসলের মাঠের কিনারে বসে বসে কল্পনা করতে করতে দৃষ্টি অনেকদুর চলে যায়,ভাবতে থাকে হায়রে জীবন! মাঝে মাঝে কল্পনায় মনের ভিতর সুখ উঁকি ঝুকিঁ দিতে চায়, দুপুরে মাঠের কাজ কর্ম সেরে বাড়ীতে ডুকার সময় দেখে কাচারি ঘরের চালে ও মাচায় নিজের হাতে লাগানো লাউ গাছে কতগুলো বড় বড় লাউ ঝুলে আছে, তাড়াতাড়ী বাড়ীর ভিতরে গিয়ে ঘরে ডুকে বউকে বলতে থাকে আরে শুনছ, একটা ঘটনা হয়ে গেছে, বউ হাতের রান্নাবান্না ফেলে তড়ি গড়ি করে ঘরে এসে হাজির কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করতেই বলে আরে কাচারি ঘরের চালে ৪টা লাউ বুড়া হয়ে গেছে, মেহের আলির কথায় হেসে উঠতেই বউকে জড়িয়ে ধরে দু গালে দুটু চুমু খায়, একটু লজ্জা পেয়েও ঘরে কেউ না থাকাতে দুজনেই একটু সুখ অনুভব করে কিন্তু অভাবের তাড়নায় সুখ দ্রুতগতির ট্রেনের চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে দৌড়ে পালায়। স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়,আর ভিন্ন সুরে গান গায় পাগল মন.. মনরে .. মন কেন এত কথা বলে.. বলতে বলতে ক্লান্ত শরীরে খাটের পাশে হেলান দিয়ে ঝিমিয়ে পড়ে, এক সময় স্তম্বি ফিরে পায় কিন্তু এদিকে বেলা গড়িয়ে সন্ধা। নিজের দেরাজের দিকে দেখে একবার বাইরের দিকে দেখে একবার মেহের আলি। অভাবের সংসার ছেলে মেয়েদের নিয়ে এমন হাজারো দিন না খেয়ে কাটিয়েছে। সব সময় কাজ থাকেনা তাই মাঝে মাঝে অন্যের জমিতে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে ও সংসারের জন্য শাক শুটকি তরি তরকারি আর যত সামান্ন ছোট ছোট মাছ কিনে আনে, সংসারে অভাব লেগে থাকলেও এটাকে কিছু মনে করে না, যেন সয়ে গেছে মেহের আলির জীবনে। নিজের এত কষ্টের মাঝেও ছেলে মেয়েদের লেখ্ াপড়া শিখিয়ে একটু আলোর মুখ দেখতে চায় সে, তাই নিজের কষ্টটাকে কষ্টই ভাবেনা।

শিক্ষার আলো মেহের আলির জীবনের পথকে আলোকিত করতে পারেনাই, নিজের জীবনকে আলোকিত করতে পারে নাই বলে ছেলে মেয়েদেরকেও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করবে এটা তার উদ্দেশ্য নয়, নিজের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর কষ্টের কথা চিন্তা করেই ছেলে মেয়েদের জন্য সুন্দর জীবন প্রতিষ্টা করে দিয়ে যেতে চায় সে। সহজ সরল মনের মানুষ হিসেবে এলাকাতে তার একটা ভিন্ন পরিচিতি আছে, সে খেয়ে নাখেয়ে থাকবে কিন্তু কোন ঝামেলায় জড়াতে পছন্দ করেনা কখনো। তার ঊদ্দেশ্য একটাই ছেলে মেয়েরা একদিন মানুষের মত মনুষ হবে। লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষিত্ হয়ে বাড়ি আসবে,ইঞ্জেরিতে (ইংরেজিতে) কথা বলবে,ভাল জামা কাপড় পরবে,ভালভাবে জীবন কাটাবে। ঠান্ডা করা অফিসে (এ সি করা অফিসে) চাকুরি করবে, ছেলেকে ঠান্ডা অফিসে দেখে তার মন জুড়িয়ে যাবে,সবাইকে বলবে, আমার ছেলে শিক্ষিত্ আর বড় লোক হয়েছে গর্ভে আমার মনটা ভরে যাবে আর মেয়েটাকেও একটা শিক্ষিত আর ভাল ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দেবে তার ইচ্ছে মেয়ে যেনো মায়ের মত কষ্ট করতে না হয়, সূখে শান্তিতে জীবন কাটাতে পারে। এসব আসা ভরসা মনে পুষে রেখেই একটা সূখি সুন্দর দিনের অপোক্ষায় মেহের আলি নিজের পরিশ্রম আর কষ্টকে মনে রাখে না। মাঝে মাঝে বউকে জড়িয়ে ধরে বলে দেখবে তোমার ছেলে একদিন আনেক বড় কিছু হবে। তোমার আমার মনের আশা পুরণ করবে। বউ বলত আল্লাহ যেন আশা পুরণ করেন।
ছোট বেলা থেকেই ছেলেটা বাবা-মায়ের খুব ভক্ত। হাটা চলা শিখার পর থেকে সকালে বাবা মাঠে যাওয়ার সময় বাবার হাত ধরে মাঠে যেত সাথে বাবার কিনে দেওয়া বর্ণমালার বইটা নিতে ভুল করতনা, বাবা মাঠে কাজ করার সময় সে জমির আইলে বসে বসে পড়ত মাঝে মাঝে বাবার কাজে সাহায্য করতে চেষ্টা করত। তখন থেকেই বাবা ছেলের আগ্রহের প্রতি দুর্বল ছিল। দুপুরের কড়া রোদে যেমন বাবাকে কাজ করতে বারন করত আবার বৃষ্টি হলেও বাবাকে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ না করার জন্য বলত। এক বার মায়ের সাথে বেড়াতে গিয়ে বাড়ি আসার সময় বৃষ্টিতে একটু ভিজে গিয়েছিল, আর রাতে জ্বর হয় এবং বেশ কয়েকদিন জ্বর ও ঠান্ডায় সে অনেক কষ্ট পাওয়ার পর ভাল হয়, তখন থেকে মনে করত বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর হয় তাই বাবাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দিতে চাইত না। ছেলের কথায় তো আর মেহের আলির দিন চলবেনা, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় করে মেহের আলিকে কাজ করে জমিতে ফসল ফলাতে হবে যার উপর নির্ভর করে মেহের আলির সংসারের ভরন পোষন ছেলে মেয়ের লেখা পড়া চলবে,এটা দৈনন্দিন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
ছোটকাল থেকেই ছেলের লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে বাবা মনে মনে পরিকল্পনা রাখেন যত কষ্টই হোকনা কেন ছেলেকে বড় শিক্ষিত বানাবে, কখনো কখনো ছেলেকে আদর করে বলত, বাবা তোমাকে অনেক বড় শিক্ষিত বানাবো তুমি বেশী বেশী লেখা পড়া করবে, যত বেশী কেলাসে (ক্লাসে) পড়তে চাও তা পড়াবো। বছরের প্রথম দিন ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে মেহের আলির বুকভরা আনন্দ যেন আর তর সয়না,ঘরের কাউকে কিছু না বলেই হাঁটে চলে যায় এবং গ্রামের হাঁট থেকে জিলাপি কিনে নিয়ে আসে বাড়ীর সকলকে বিলিয়ে দেয় আনন্দ করে নিজেরাও খায়।
সময়ের চাকা ঘুরতে ঘুরতে এরই পাকে আরো ১৬টি বছর কেটে যায়, মেহের আলি আশায় বুক বেধেঁ আছে আর কত দিন পর ছেলে বিশ্ব্যবিদ্যালয় পড়া শেষ করে বড় শিক্ষিত হয়ে বাড়ী আসবে সকলের নিকট বলবে ছেলে বড় শিক্ষিত হয়েছে। স্কুলে ভর্তীর পর থেকেই ছেলে প্রতি বছর প্রতি ক্লাসেই ভাল ফলাফল করে এবং নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকার কারনে সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ওকে খুব আদর করত লেখাপড়া ভাল করত বলে ক্লাসের সকল পরিক্ষায় ১ম স্থানটা সবসময় ওরই ছিল। ৫ম শ্রেণী, ৮ষ্টম শ্রেণী সহ বোর্ডের সকল পরীক্ষায় স্কলার্সীপ পেয়ে পেয়ে পাস করে,স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিকট ছেলের ভাল রেজাল্টের কথা শুনে বাবা-মাও খুব খুশী মাঝে মাঝে অনেককে বলত আমার ছেলে কি পরিক্ষা দেয়, পরিক্ষা দিলেই নাকি ছেলে পাশ করে ফেলে আর স্কুল কলেজে বেতন নেয় না, আরো টাকাও নাকি পায় সরকার থেকে। কলেজের গন্ডি পেরিয়ে এবার বিশ্ব্যবিদ্যালয় ভর্তির পালা। নিজেকে মনমত করে সফল মানুষ হিসাবে তৈরি করার বুঝ এখন ছেলের হয়েছে তাই নিজের মনমত বিষয়ে বিশ্ব্যবিদ্রালয়ে ভর্তী পরিক্ষা দেয় এবং ভর্তীও হয়। ক্লাস শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসে থেকে লেখাপড়া করে, লেখাপড়ার ফাকে ফাকে দুএকটা টিউশানি করে নিজের হাত খরছ ও বই খাতা খরছ ইত্যাদি নিজেই চালায় আবার কখনো কখনো বাবা-মার কষ্ট কমানোর জন্য বাবাকেও কিছু টাকা পাঠাত। মায়ের বুকের ধন নিলমনি, মা সব সময় নামাজ শেষ করে নামাজের বিছানায় বসে দু-হাত তুলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট ছেলের ভাল লেখা পড়া, ভবিষ্যত মঙ্গল এবং বিপদ আপদ থেকে মুক্ত থাকার জন্য দোয়া করতেন।
মেধাবি আর ভদ্র ছাত্র হিসাবে ওর একটা নাম হয়ে গেছে বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে, সেই সুবাদে শিক্ষকরাও ভাল করে চিনে গেছে। বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের ক্লাস টিউশানি আর লেখাপড়া ব্যাতিত অন্য কোন কাজে সে যায়না
কখনো, এমন কি রাজনীতিতেও সে মোটেই জড়ায়না কারণ রাজনীতি তার পছন্দ নয়। সফল ভাবে চার বছরের মাথায় অনার্স পাশ করে মাস্টার্সে ভর্তি হয়, অনার্সে সে সকলের মধ্যে সবছেয়ে ভাল রেজাল্ট করে একেবারে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হয় সে,খুব খুশি মনে বাবা-মাকে মোবাইল ফোনে খবর দেয় ছেলের আনন্দে বাবা-মাও বেশ আনন্দিত, দুজনেই মনে মনে ছেলেকে নিয়ে নানা রকম কল্পনার ছবি আঁকে আর প্রহর গোনে কমাস পরেই ছেলে একেবারে পাশ করে বাড়ি আসবে। মার যেন আর তর সয়না ছেলের জন্য খেজুরের গুড়ের পাটালি, চিড়ার লাড্ডু মুড়ির মোয়া ইত্যাদি বানিয়ে রাখে। আতপ চাল তৈরি করে জমা রাখে ছেলে আসলে শীতের পিঠাফুলি বানিয়ে খাওয়াবে, ছেলে বাড়ি এসে মাকে পা ছুয়ে সালাম করে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলবে তোমার ছেলে একটা একটা করে দেশের সবছেয়ে বড় ডিগ্রী পাশ করে এসেছে একইসাথে বাবাকেও বলবে এবং সকলে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে।
রাতের ঘুমটা ভাল হয় নাই,কেমন একটা অজানা শংঙ্কায় বুকের ভিতরটা ধুর ধুর করছে, কোন অবস্থাতেই কাজে যেতে ইচ্ছে করছেনা,একটা দু:স্বপ্ন দেখে বউ মেহের আলিকে অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু আগেই জাগিয়ে তুলেছে। একটা প্রবাদে আছে কোন দু:স্বপ্ন সহ রাতের স্বপ্নের কথা নাকি রাতে কাউকে বলতে হয়না তাই স্বপ্নের কথাটা না বলেই বউ অজু করে নামাজ সেরে নেয় ও কোরান তিলাওয়াত শেষ করে ঘর ঝাড়– দিয়ে রান্না ঘরের দিকে যায় কারণ মেহেরআলি মাঠে কাজে যাওয়ার আগে একটু ঝাল ভর্তা দিয়ে গরম ভাতের নাস্তা খেয়ে ও দুপুরে খাবার জন্য একটা বোলে করে ভাত এবং একসাথে তরকারি মিলিয়ে পে¬েট ঢাকনা দিয়ে গামছায় বেধে সাথে করে মাঠে কাজে চলে যায়। কিন্তু আজ তার মাঠে যেতে ইচ্ছে করেনা তবুও বউয়ের অনুপ্রেরনায় কাজে যায় সে কারণ এক দিন কাজ না করলেযে সংসারে অনেক কষ্ট হয়। মাঠে জমির এক কোনায় একটা হিঝল গাছ আছে তার নিচে খাবার রেখে জমিতে কাজে নামে। রোদ্র মেঘের ছায়ার ফাকে ফাকে অন্যমনস্কভাবে কাজ করতে করতে দুপুর গড়িয়ে যায়, বউয়ের দু:স্বপ্নের কথাটা না বলায় মাথায় আজে বাজে চিন্তা আসলেও তা সরিয়ে ফেলে। মনটা উৎপুল্য রাখতে চায় কারণ ২/৪ দিন পরই ছেলের ফাইনাল পরীক্ষা। দুপুরের খাবার সেরে জমিতে কাজে নামার একটু পরেই হঠাৎ একটা গুর্ণিবায়ু এসে মেহের আলিকে একটা ধাক্কা মেরে উড়িয়ে প্রায় ১০/১২ হাত দুরে হিঝল গাছের নিচে ফেলে দেয় সে কিছুই বলতে পারেনা,চারিদিক অন্ধকার দেখে অজ্ঞান অবস্থায় জমিতে পড়ে থেকে অনেক সময় কেটে যায়। এদিকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়। গাঁম ও বৃষ্টিতে ভিজে যাবে বলে মোবাইল ফোনটা সব সময় একটা পলিথিনে পুরিয়ে পরনের লুঙ্গির খুচিতে রেখে দিত, মোবাইলের রিং টোন আর কাঁপনির শব্দে সস্তি ফিরে পেয়ে উঠে কোমরের খুচি থেকে মোবাইল বের করে কানে দিতেই সে কেমন যানি হয়ে যায়, হেলো হেলো করতে করতে মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে যায়। মেহের আলির আর্ত চিৎকারে আশপাশের কয়েকজন শ্রমিক এসে তাকে বাড়ি নিয়ে যায় মোবাইলের খবরটা তারা জেনে যায়। মুখে মুখে খবরটা মার কাছে পৌঁছাতেই মা চিৎকার করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে, বাবা-মা ও পাড়া প্রতিবেশির চিৎকারে যেন এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। বার বার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বাবা-মাকে সান্তনা দেয়ার ভাষা কারোরই নাই। বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্র সহপঠি সবাইকে কাঁদিয়ে কয়েকজন ছাত্র কফিন নিয়ে বাড়িতে আসে। শহরে টিউশানি সেরে বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ডুকার পথে রাজনৈতিক ঊত্তেজনা ও হল দখল নিয়ে দু’দল ছাত্রের গোলাগুলিতে কিছু বুঝে উঠার আগেই একটা গুলি এসে ওর মাথার এক পাশে লাগে আর অমনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রাস্তার পাশে। অনেক্ষন পর ক’জন ছাত্র ধরাধরি করে ডাক্তারের নিকট নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষনা করে। ছেলে বাড়িতে এসেছে বটে তবে পায়ে হেঁটে নয় বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক সবাইকে কাঁদিয়ে কফিন বক্সে করে। পৃথিবিতে সবচেয়ে ভারী বোঝা হল মা-বাবার কঁধে ছেলে মেয়ের লাশ। আহাজারি আর আর্তনাদে মনে হচ্ছে বিকেলের সোনারোদ আর সন্ধ্যার সকল অন্ধকারকে একাকার করে দিয়ে সবচেয়ে ভারী বোঝাটাকে নয় যেন নিজেদেরকে কঠিন মাটির নিচে গাঁড়িয়ে দিয়ে আসলেন…..।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন ও মানবাধিকার কর্মী।