শাকিব-জিনিয়া শুভ ক্ষ-নে…

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :-
গায়ে হলুদ পায়ে আলতা হাতে মেহেদি, বিয়ের সাজে কণ্যারে সাজাও জলদি, রূপ দেখে তার যায় মুর্ছা যায় শাশুড়ী-ননদি, গায়ে হলুদ….. মুর্ছা তো যাবেই, না গিয়ে উপায় কি…? ছেলের জন্যে চন্দ্র-তারা-মেঘে মেয়ে খুজতে খুজতে হয়রান দীর্ঘ সময় ধরে, চাওয়া পাওয়ার হিসাব মিলিয়ে অবশেষে জালে ধরা পড়ে সেই কাঙ্খিত সফলতা… যেন সোনায় সোহাগা। আনুষ্ঠানিকতার মাঝে ৪দিন আগথেকে উভয়ের গায়ে হলুদও বাদ পড়ে নাই। স্বপ্নে বিভোর রাজকুমার শেষ পর্যন্ত ২৬ মার্চ বিজয় দিবসে সেই কাঙ্খিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে স্বক্ষ্যম হয় ৪২ নং উত্তর বাসাবোর বাসিন্দা ডা: এসএম খোরশেদ আলম আশ্রাফির জেষ্ট পুত্র সৈয়দ জাকারিয়া আলম। হেমিলিনের বাঁশিওয়ালার সেই লম্বা মিছিল পেছনে রেখে ঝুমুর ঝুমুর নুপুর পায়ে লাল বেনারসি শাড়ীতে সাজিয়ে আলতো পায়ে ছন্দ তুলে মৃদু মৃদু পদক্ষেপে কাঙ্খিত বন্ধু-বান্ধবদের চোখে তাক লাগিয়ে দিয়ে বীরদর্পে বিজয়মাল্য ১৩৭ উত্তর গোরানের বাসিন্দা মোঃ জাকির চৌধুরী ও মিসেস সারমিন জাকির চৌধুরীর একমাত্র কন্যা জিনিয়া চৌধুরীকে হৃদয়ের গহীন কোনে স্থান দিয়ে ঘরে তোলে। অপেক্ষায় অপেক্ষায় ছেলের মায়ের যেন তর সয়না, কেন সইবে? সংসার সমরাঙ্গনে দৃঢ়পনে যুদ্ধকরা শত দুঃখ্য-কষ্ট ও ঘাত-প্রতিঘাতেও সফলভাবে বিজয়ী সাত সন্তানের (৪ছেলে+৩মেয়ে) জননী এক মমতাময়ী স্নেহাস্পদ মা ইসমতআরা বেগম। নাড়ীকাটা ধন কলিজার টুকরা ছেলে এবং বসন্তের এই কাঁচাফুলে সজ্জিত লালগোলাপ ছেলেবউ এর অপেক্ষায় দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে সাদরে বরন করে বুকে জড়িয়ে নিয়ে আনন্দে উদ্বাসিত, দেখে মনে হয় ভাঙ্গাঘরে পুর্ণিমা চাঁদের হাসি। যোগ্য পাত্রের হাতে তুলে দেয়া বাবা-মায়ের সুখে সুখি জিনিয়ার আনন্দ আজ বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে পরিণত, যেন হাজার বছর যার অপেক্ষায়, সেই কাঙ্খিত রাজকুমার আজ তার হাতের মুঠোয়, নিজেকে উজাড় করে দেয়ার এক মৌ মৌ আনন্দে আন্দোলিত মনকে যেন কোন কিছুতেই থামানো যায় না। সবকিছু যেন নিজের কাছে রোমান্টিক মনে হয়, নিজেকেও বিশ্বাস করতে পারেনা, নিজের শরীরে নিজে চিমটি কেটে দেখে, দুর-ছাই, যা:…এতো স্বপ্ন নয়, সবই সত্য এবং বাস্তব নিজেকে ফিরে পায় আনন্দ আর সফলতার মাঝে।
“চাঁদনী রাতে সাঁঝ প্রভাতে তোমারই আছি এই তো,
তুমিছাড়া আর জীবনে আমার কিছুই চাওয়ার নেই তো !!!”
ফ্রেন্ডস কমিউনিটি সেন্টার, লাল নীল হাজার হাজার তারাবাতির জলকানিতে জ্বলেউঠেছে, আর নেপথ্য কন্ঠে বেজে উঠল, চন্দন-অ পালঙ্কে শুয়েএকা একা কি হ বে… জীবনে তোমায় যদি পেলাম না…!!! কেন?? না পাওয়ার কি আছে, এত আয়োজন আর এত কিছু সব তো পাওয়ার ই জন্যে। এত্তসব আয়োজন তো আর এমনিতে নয়, সবকিছু যেন অলৌকিক ভাবে ঘটে যাচ্ছে। উপরে নিচে সকলের তৃপ্ততার ঢেকুর, পোলাউ, রোষ্ট, কাবাব, গরু-খাশির রেজালা, সবজি, সালাদ, ভোরহানি, জর্দা… কিসের ই বা কম, তবুও যেন একটা শর্টফিল্ম দেখার বাকি রয়ে গেছে। হাঁ সবই সার্থক উপরে হলঘরে গিয়ে সোনালী আলোয় স্বপ্নিল আবেশে যেন স্বপ্নের রাজকুমার আর রাজকুমারীকে দেখে। হাজার বাতির আলোর মাঝেও সবার দৃষ্টি সন্মুখে সাজানো ষ্টেজের দিকে। বিদ্যুৎ চমকানোর মত ক্যেমেরা ও মোবাইলের ক্লিক ক্লিক আওয়াজ আর ফ্লাস লাইটের আলোর জলকানিতে প্রায় সকলের হাতে হাতে বিনি সুতায় যুগল বন্ধি করে নেয় সাকিব জিনিয়ার অপ্রত্যাসিত জীবনের প্রত্যাসিত সার্থকতাকে। মুসলিম রীতি নীতির আমোগ সত্য (জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে) এই বিয়ের মাধ্যমে হালাল জীবন যাপনের এক মহাসত্যকে সামনে রেখে রেজিষ্টারের সবুজ পাতায় স্বাক্ষরের দ্বায়বদ্ধতায় সকলের দোয়া ও মুনাজাতের মধ্যদিয়ে সুখি জীবনের প্রত্যাসায়……..












