“সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ থেকে রাইয়ান কবিরকে অপসারণ”


খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
পরিচালক রাইয়ান কবিরকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পর্ষদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রিতষ্ঠান।বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে এক মাসের মধ্যে তার পরিচালক পদ শূন্য করে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। রাইয়ান কবির সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলমগীর কবিরের পুত্র বলে জানা যায়।
আজ ১ জুন বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি সাউথইস্ট ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও সম্পদের আকারের দিক থেকে এটি দেশের বেসরকারি খাতের বড় ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ব্যাংক, যার বর্তমান (সাউথইস্ট ব্যাংকের) মোট সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
রাইয়ান কবির ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন । সম্প্রতি এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি অভিযোগ জমা এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত পাওয়ায় রাইয়ান কবিরকে পর্ষদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একইসাথে দুইটি পদে থাকতে পারবেন না। অর্থ্যাৎ, ব্যাংকে চাকরি করলে তিনি একই ব্যাংকের পরিচালক হতে পারবেন না, আবার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তি নিজ ব্যাংকে চাকরি করতে পারবেন না বলে নীতিমালায় উল্লেখ্য রয়েছে।রাইয়ান কবির এর আগে সাউথইস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম রাইয়ান কবিরকে অপসারণের নির্দেশ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় রাইয়ান কবির সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে এক মাসের মধ্যে রাইয়ান কবিরের পরিচালক পদ শূন্য করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে চিঠিতে বলা হয়েছে।
১৯৯৫ সালে দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে সাউথইস্ট ব্যাংক এবং শিল্পোদ্যোক্তা এম এ কাশেম ছিলেন ব্যাংটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ধারাবাহিকভাবে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে অন্য উদ্যোক্তা-পরিচালকরা নিয়মিতভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, সেঅনুযায়ী ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন শিল্পোদ্যোক্তা ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, রাগীব আলী ও আজিম উদ্দিন আহমেদ। ২০০২ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন পেশাদার হিসাববিদ হিসাবে আলমগীর কবির।একজন চৌকস দুরদর্ষী ব্যাক্তি হিসাবে ২০০৪ সালে তিনি চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত টানা ১৮ বছরে ব্যাংকটিকে নিয়ে আসেন দেশের বেসরকারি খাতের বড় ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি ব্যাংক হিসাবে এবং চেয়ারম্যান পদটিকেও ব্যবসায়ীক সততা এবং দুরদর্ষী কার্যক্ষমতায় অলঙ্কিত করে রেখেছেন।
১৯৯৫ সালে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাংটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শিল্পোদ্যোক্তা এম এ কাশেম বিভিন্ন অনিয়ম এবং অনৈতিকতার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়ে পরিচালনা পর্যদ থেকে বাদ পড়েন, বাদ পড়ার দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও ব্যাংকটির পুর্বাপদ দখলের অনৈতিক মনোভাব থেকে পিচপা হননি।যার প্রমান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দেশের একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত পদে থেকেও লোভ-লালসা অর্থ আত্বস্বাধ এবং অনৈতিকতার প্রমান পাওয়া গিয়াছে।
সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের যে চারজন সদস্যকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন, এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের দুই পরিচালক এমএ কাশেম এবং রেহানা রহমানও রয়েছেন। ব্যাংকটির অপর পরিচালক আজিম উদ্দিন আহমেদও একই মামলার আসামি। সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের কালো ছায়াই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে বলে ব্যাঙ্কিং খাতের অনেকে অভিমত প্রকাশ করেছেন।