নির্বাচন-কালীন সরকারই গণঅভ্যুত্থান ঠেকানোর একমাত্র উপায় -মুসলিম লীগ

স্বপ্ন ভঙ্গের যাতনায় বিক্ষুব্ধ জনগণ গণআন্দোলনে শামিল হচ্ছে

অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
দীর্ঘ পনেরো বছরেরও বেশী সময় ধরে জনগণ সরকারকে সময় দিয়েছে, সহ্য করেছে। রূপকল্প-২১, ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ, দশ টাকায় চাল, বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকুরী, উন্নয়ন, সিঙ্গাপুর, ফোর লেন, এইট লেন নানা নামে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখানোর নামে কার্যত ধোঁকা দেয়া হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের অন্তরালে ভয়াবহ দুর্নীতি, গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র, মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থার চরম অবনতিতে জনগণ হাড়ে-মাংসে উপলব্ধি করেছে যে স্বপ্ন দেখানোর নামে তাদের সাথে চরম ভাবে প্রতারণা করা হয়েছে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের আড়ালে চলেছে অর্থ লোপাট আর পাচারের মচ্ছব। দশ টাকা সের চাল আর বিনামূল্যে সার পায়নি বরং হারিয়েছে মানবাধিকার আর বাক-স্বাধীনতা। ক্ষমতাসীনদের আর্শীবাদপুষ্ট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি তাদের ন্যূনতম আত্ম-সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু পর্যন্ত কেড়ে নিচ্ছে। দফায় দফায় বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাসের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। ঘরে ঘরে চাকুরীর বদলে চাকুরীরত যুবক উল্টো বেকার হয়ে দেশ-বিদেশ থেকে ঘরে ফিরে আসছে। বছরের পর বছর লাগাতার অর্থ পাচারের ফল বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল শূন্য হয়ে দেশকে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান হয়ে যাওয়ার পথে নিয়ে যাচ্ছে। আমদানি বন্ধ, ডলারের সংকট, জ্বালানীর অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ। এত কিছুর পরও ক্ষমতাসীনরা লাগাতার ওয়াদার বরখেলাপ করেই যাচ্ছে, থামছে না তাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার। ডিজিটাল আর স্মার্ট বাংলাদেশের নামে বিনা-ভোটের সরকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, দিনের ভোট রাতে হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ তাদের মতামত প্রকাশের শেষ সুযোগ ভোটাধিকারটুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে। জনগণ স্বপ্ন ভঙ্গের যন্ত্রণায় আর প্রতারিত হওয়ার ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ভোটাধিকার ফিরে পেতে তারা আজ কাতারে কাতারে রাজপথে শামিল হচ্ছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের দুই দুইটি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন থেকে জনগণ নিশ্চিত হয়েছে, ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোন সুযোগ নেই। জনগণ দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে যে, একমাত্র নির্বাচন-কালীন দল নিরপেক্ষ সরকারই ফিরিয়ে দিতে পারে তাদের ভোটাধিকার, পুন-প্রতিষ্ঠিত করতে পারে গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর বাক-স্বাধীনতা। সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন-কালীন দল নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার পুন-প্রতিষ্ঠাই তাদের ঘরে ফিরিয়ে নেয়ার একমাত্র শান্তিপূর্ণ উপায়। তাতে ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিটুকু থাকলেও দলীয় রাজনীতিটা অন্তত অক্ষুণ্ন থাকবে। ক্ষমতাসীনদের একগুঁয়েমির কারণে গণআন্দোলন অচিরেই যখন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেবে তখন আম-ছালা দুইই যাবে। জনগণের ঘৃণার মুখে দাড়িয়ে কোন দলেরই টিকে থাকার নজীর ইতিহাসে নেই।
২৩ জুলাই, ২০২৩ রবিবার বেলা ১১.০০টায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আয়োজনে, দলীয় নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। আরও বক্তব্য রাখেন, দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, অতিঃ মহাসচিব কাজী এ.এ কাফী, কেন্দ্রীয় নেতা খান আসাদ, খোন্দকার জিল্লুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, এড. হাবিবুর রহমান, আব্দুল খালেক, মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, আব্দুল আলিম, ছাত্রনেতা মোঃ নুরুজ্জামান প্রমুখ।