কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় নারীরা তিনগুণ বেশি কাজ করে

৩০ দিন প্রতিবেদক :
বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য
আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী কর্মজীবি পুরুষের তুলনায় কর্মজীবি নারী কাজ করেন তিনগুণ। তবে কর্মজীবি নারীর গৃহস্থালির কর্মকান্ডের আর্থিক মূল্যায়ন করা হয়না বিধায় এর গুরত্ব দৃশ্যমান হচ্ছে না। সম্প্রতি বিবিএস পরিচালিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপে কর্মজীবি নারীর ঘরের কাজকে ‘ডাবল বারডেন’ (দ্বিগুণ বোঝা) বলা হয়েছে।
জরিপের তথ্য মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের শ্রমশক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নারীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। এর আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯১ লাখ। অর্থাৎ এক অর্থবছরে কর্মজীবি নারীর সংখ্যা বেড়েছে নয় লাখ। অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের শ্রমশক্তির মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৫ লাখ। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে শ্রমশক্তিতে পুরুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে মাত্র চার লাখ।
ঘরের কাজ কে কতটুকু করে : জরিপ অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী উভয়েই কর্মজীবি এমন পারিবারিক পরিবেশে শতকরা ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই রান্নার কাজটি করতে হয় নারীকেই। আর কর্মজীবি পুরুষের রান্না করতে হয় মাত্র আড়াই শতাংশ ক্ষেত্রে। কর্মজীবি ১০০ জন নারীর মধ্যে ৮৯ জনই কাপড় ধোয়ার কাজ নিজেই করেন। আর ১০০ জন কর্মজীবী পুরুষের ক্ষেত্রে এই কাজ করেন মাত্র ১২ জন। অন্য পুরুষদের কাপড় ধোয়ার এই কাজ করেন গৃহকর্মী (বেশিরভাগ নারী), পরিবারের অন্য নারী সদ্যস্য অথবা লন্ড্রি। কর্মজীবি নারীদের ৮৮ শতাংশ ঘর পরিষ্কারসহ বাসার বিভিন্ন কাজ করে থাকেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, পরিবারের জন্য এই ধরনের কাজ করে কেউ কোন বেতন বা পারিশ্রমিক পান না। অর্থনীতির ভাষায় এটাকে ‘আনপেইড ফ্যামেলি ওয়ার্ক’ বলে। আর এই কাজগুলো নারীরাই বেশি করেন। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু ঘরের কাজ বাদ দিয়ে নয়। অর্থাৎ একই সঙ্গে তারা ঘরের কাজও করছে। ফলে তারা পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা অবসর পাচ্ছে না। এতে কর্মজীবি নারীদের মানসিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।
শ্রম জরিপ প্রকল্পের পরিচালক কবির উদ্দিন আহমদ বলেন, জরিপে আমরা দেখেছি ‘আনপেইড ফ্যামিলি ওয়ার্কার’, যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তাদের সংখ্যা কমে আসছে এবং অধিক হারে নারীরা ‘আনপেইড’ থেকে ‘পেইড এমপ্লয়মেন্টে’ আসছেন। অর্থাৎ অর্থ উপার্জনমূলক কর্মকাণ্ড নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এক বছরে আনপেইড ফ্যামিলি ওয়ার্কারের সংখ্যা ১৪ লাখ কমে ৮৬ লাখ হতে ৭২ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এক্ষেত্রে পুরুষদের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও নারীদের ক্ষেত্রে কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ, যাদের অধিকাংশ আনপেইড থেকে পেইড এমপ্লয়মেন্টে এসেছেন।