অবসরে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে কিছুক্ষন

মালিকপক্ষের অনাকাঙ্খিত প্রভাব, বীমা কোম্পানীগুলোর বিশৃঙ্খলার মুল কারণ
সামছুল আলম, প্রাইম ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা

মো. সামছুল আলম প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগদান করেছেন । ২৩ জানুয়ারি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করেছেন, সামছুল আলম এর আগে বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের ১১ মে তিনি বীমা কোম্পানীটিতে যোগদান করেন।বেস্ট লাইফের আগে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন সামছুল আলম। ২০১৬ সাল থেকে তিনি কোম্পানিটির এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে তিনি একই কোম্পানিতে ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সামছুল আলম ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৬৮ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম সাইফুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

বীমা শিল্পে আসার পর আপনার প্রথম জীবনের অভিজ্ঞতা বা প্রথম জীবনের দিনগুলি কেমন অতিবাহিত করেন ?

বীমা শিল্পে আমার আগমন ঘটে আমার পিতা এটিএম সাইফুল ইসলামের আগ্রহে আমি বীমা শিল্পের সাথে জড়িত হই। তিনি পাকিস্তানের হাবিব ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে জীবন বীমা কোম্পানী থেকে জিএম হিসেবে অবসর গ্রহন করেন, পরবর্তিতে তিনি রুপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
যেহেতু আমার পিতা জীবন বীমার সাথে জড়িত ছিলেন তাই ছোট বেলা থেকেই এই বীমা শিল্পের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে ১৯৯৬ সালে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে যোগদান করি। এর মাধ্যমেই শুরু হয় বীমা শিল্পে আমার পদচারনা। তারপর থেকে বীমা শিল্পের সাথে আছি। বীমা শিল্পের প্রতি কর্মীদের আকর্ষণ বৃদ্ধি, গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি ও কোম্পানী আধুনীকায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আপনার মতে বীমা শিল্পের প্রতি আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের অনিহা বা নেতিবাচক ধারনার এবং বীমা শিল্পের চাকুরিতে আসতে না চাওয়ার কারন কি এবং কেন ?

আমার দীর্ঘ বীমাশিল্পের অভিজ্ঞতায় দেখেছি। একটা সময় পর্যন্ত মানুষের বীমা শিল্পের প্রতি কোন অনিহা বা নেতিবাচক ধারনা ছিলোনা। বর্তমানে কিছু কোম্পানী যথাসময়ে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করার কারনে ও লভ্যাংশ কমে যাওয়ায় সাধারন মানুষের অনিহা ও কর্মীদের বীমা শিল্পের চাকুরীতে না আসার একটি কারণ। আরো একটি বিষয় আমার কাছে মনে হয় যুগোপযোগী প্রডাক্ট চালু করা প্রয়োজন। আধুনীক বিশ্বে অনেক নতুন নতুন সুযোগ সুবিধা সহ প্রডাক্ট রয়েছে এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশে নতুন প্রডাক্ট চালু করলে সাধারণ মানুষের ও কর্মীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।

চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের এত ছোট একটা দেশে এতগুলি বীমা কোম্পানী, শোনা যাচ্ছে আরো কয়েকটা কোম্পানী অনুমোদনের অপেক্ষায় পাইপ লাইনে, প্রকৃতভাবে এতগুলি কোম্পানীর প্রয়োজনীয়তা আছে কি ?

চুয়ান্ন হাজার বর্গ মাইলের ছোট দেশ হলেও আমাদের জনসংখ্যা কিন্তু কম নয়। জন সংখ্যার ভিত্তিতে কাজের পরিধি ও বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে দেশে ৩৫টি লাইফ এবং ৪৬টি নন-লাইফ মোট ৮১টি কোম্পানী কাজ করছে। যদিও পাশ্ববর্তী দেশ অনেক বড় ও জন সংখ্যার পরিমান ও বেশী হওয়ার পরও কোম্পানীর সংখ্য ২৩টি। বর্তমানে যে কোম্পানী গুলো কাজ করছে তার অনেক গুলোই সঠিক ভাবে সেবা দিতে পারছে না। সার্বিক দিক বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। বর্তমানে যে সকল বীমা কোম্পানী চলমান তাদের পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ তদারকির মাধ্যমে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন করাই যুক্তি যুক্ত হবে।

দুর্নীতি, লুটপাট এবং অব্যবস্থাপনায় বর্তমানে প্রায় ৯/১০টা জীবন বীমা কোম্পানীর বেশ নাজুক অবস্থা, এ সময়ে আমাদের দেশের জীবন বীমা এবং এর অবস্থা-অবস্থান ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার মতামত কি ?

এক্ষেত্রে কোম্পানীগুলোর ফান্ড সমূহ যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতেকরে ফান্ডের অপব্যবহার না করা যায়। ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অত্যান্ত জরুরী। সেক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেশের ৯/১০টি জীবন বীমা কোম্পানীতে যে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তার পিছনে মালিকপক্ষের অনাকাঙ্খিত ব্যক্তিগত প্রভাব, বীমাখাতে বিশৃঙ্খলার কারন শুরুর দিকে সঠিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকির অভাব অন্যতম। বর্তমানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ দ্বারা গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে দেশের বীমাখাতে পরিবর্তন সাধনের উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সঠিক পদক্ষেপের ফলে বীমা কোম্পানীগুলোর লাইফ ফান্ড বৃদ্ধি, অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ হ্রাস, বীমাদাবি পরিশোধের হার তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতীয়মান। তাই বাংলাদেশে বিদ্যমান বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন পর্যবেক্ষণ, তদারকি, শৃঙ্খলা ও কঠোর নিয়মনীতির আওতায় এনে পারিবারিক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অনাকাঙ্খিত প্রভাবমুক্ত করতে পারলে জীবন বীমা শিল্পের ঘুরে দাড়ানোর ব্যাপারে আমি অনেকটাই আশাবাদী।

প্রায় শতভাগ কোম্পানীই ডিজিটাল হওয়ার পথে, এতে করে জনগনকে শতভাগ তথ্য আদান-প্রদানের ও লেনদেন নিশ্চিত করতে পারতেছে কি না এবং কোম্পানীগুলি কতটুকু উপকৃত হয়েছে বলে মনে করেন।

ডিজিটালাইজেশন এবং অটোমেশনের ব্যবহারের ফলে কোম্পানীগুলোর ওভারহেড খরচ সমুহ, ভুলত্রুটির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। বীমা কোম্পানীগুলোর মধ্যে ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। ডিজিটালাইজেশনের ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত সকল প্রকার তথ্য পাচ্ছে ফলে নিয়ন্ত্রন সহজ হয়েছে। বীমা কোম্পানীগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যে কারণে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ কমে আসছে। বর্তমানে অনেক কোম্পানীই ডিজিটাল লেনদেন এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও বীমা দাবী পরিশোধ করছে, এর ফলে প্রিমিয়াম সংগ্রহের ঝুঁকি ও বীমাদাবী সংগ্রহে গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে এসেছে। এছাড়াও ওয়েবসাইট, অ্যাপস, চ্যাটবট, এসএসএস সার্ভিস ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে তথ্য প্রদান পূর্বের তুলনায় সহজতর ও গ্রাহক বান্ধব হয়েছে। এর ফলে গ্রাহক ও কোম্পানী উপকৃত হচ্ছে।

লাইফ ফান্ডের ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানীগুলি অনেক পিছিয়ে পড়ে আছে, কি কারনে তাদের এই অবস্থা বলে মনে করেন ?

ব্যবসা সংগ্রহ ও কোম্পানীর পরিচালনার জন্য পূর্বের তুলনায় ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের তুলনায় তৃতীয় ও চতুর্থা প্রজন্মের কোম্পানীর ব্যবসায়িক ব্যয় বেশি। তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানীগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করার বয়স আনুপাতিকভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের কোম্পানীগুলোর তুলনায় অনেক কম। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে বিপুল লাইফ ফান্ড সংগ্রহ করা অনেকটাই কঠিন। এছাড়াও তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানীগুলোর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অভাব, প্রায়শই মালিকপক্ষ কর্তৃক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লাইফ ফান্ডের অপ-ব্যবহার ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংকুচিত হওয়া ও ভবিষ্যতে উদ্ভুত বীমাদাবী ও অন্যান্য খরচ বা দায় মোকাবেলায় সঠিক কর্মপন্থার অভাব লাইফ ফান্ডের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে বলে আমি মনে করি।

জীবন বীমার ক্ষেত্রে শিক্ষিত সমাজের অনিহার কারন কি কি এবং শিক্ষিত সমাজকে বীমার আওতায় আনতে হলে কি কি পদ্ধতি অবলম্বনের প্রয়োজন ?

জীবন বীমার ক্ষেত্রে শিক্ষিত সমাজের অনীহার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নেতিবাচক প্রচারনা বীমা শিল্পে ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ন্যায় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অপর্যাপ্ততা, বীমার প্রয়োজনীয়তা ও সুফল সম্পর্কে অজ্ঞ, বীমা নিয়ে বীমা এজেন্টদের বীমা পলিসি সংক্রান্ত অপর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন এবং বীমা কোম্পানীগুলোর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতা ইত্যাদি। শিক্ষিত সমাজের মাঝে বীমা নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বীমার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে দরকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে জাতীয় ভাবে বীমা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা উদ্যোগ গ্রহণ করা, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। কর্তৃকপক্ষ বীমা কোম্পানীগুলোকে কঠোর জবাব দিহিতার আওতায় নিয়ে আসা, বীমা কর্মীদের ব্যপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, শুদ্ধাচার নীতির কঠোর জোড়ালো প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম জমার পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে ২য়/৩য় বর্ষ প্রিমিয়াম সংগ্রহে কি কি সমস্যাগুলি তৈরি হয় ?

প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম জমার পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে দ্বিতীয় তৃতীয় বছরে প্রিমিয়াম বা রিনিউয়াল প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো দেখা যায় তা হল গ্রাহকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বিবেচনা না করে পলিসি গ্রহন। কোম্পানীর কাস্টমার সার্ভিস কর্তৃক বীমা গ্রাহকদের সাথে পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাব, রিনিউয়াল প্রিমিয়াম সংগ্রহে বীমাকর্মীরা কমিশন প্রাপ্তিতে তুলনামুলকভাবে কম কমিশন বা লাভবান হওয়ায় প্রিমিয়াম সংগ্রহে আগ্রহের অভাব, গ্রাহকদের অনেকক্ষেত্রে প্রিমিয়াম পরিশোধের সঠিক পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অবগত না থাকা ইত্যাদি।

পলিসি তামাদি হওয়ার কারনগুলি কি, এবং তামাদি পলিসি নিয়ে আপনাদের ও গ্রাহকদের কি কি সমস্যায় পড়তে হয় এবং পরিত্রানের উপায় কি ?

সঠিক সময়ে বীমা পলিসির প্রিমিয়াম পরিশোধ না করলে এবং পরবর্তীতে বীমাকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রিমিয়াম পরিশোধের জন্য নির্ধারিত অনাগ্রহকাল (Grace Period) অতিক্রান্ত হয়ে গেলে বীমা পলিসিটি তামাদি পলিসি হিসেবে গণ্য করা হয়। পলিসি তামাদি হওয়ার পিছনে অন্যতম কারণগুলো হল গ্রাহকদের সক্ষমতার বাইরে বীমা পলিসি গ্রহণে, বীমা এজেন্ট কর্তৃক গ্রাহক তদারকির অভাব, গ্রাহকদের সহিত যথাযথ যোগাযোগ রক্ষা না করা এবং গ্রাহকদের প্রিমিয়াম পরিশোধের সঠিক পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অবগত না থাকা ইত্যাদি। যেহেতু বীমা কোম্পানীর প্রথম বছরের প্রিমিয়ামের সিংহভাগই ব্যবসা অর্জনের খাতে খরচ হয়ে যায় সেহেতু পরবর্তী বছরের প্রিমিয়ামগুলোই বীমা কোম্পানীর লাইফ ফান্ড তৈরি করতে সহায়তা করে। সেজন্য তামাদি পলিসি বেড়ে গেলে একটি বীমা কোম্পানী শক্তিশালী লাইফ ফান্ড গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অপরদিকে বীমা গ্রাহক বীমা সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। এক্ষেত্রে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে প্রয়োজন সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে গ্রাহককে উপযুক্ত বীমা পলিসি গ্রহণে সহায়ত করা, গ্রাহককে ডিজিটাল পদ্ধতি (ইএফটি) এর মাধ্যমে বীমা প্রিমিয়াম প্রদানে উদবুদ্ধ করা, কোম্পানী কর্তৃক বীমা এজেন্টদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান এবং সম্মানিত গ্রাহকগণেরও সময়মত প্রিমিয়াম পরিশোধের বিষয়ে সচেতন থাকা।

সাধারন মাঠকর্মী থেকে লম্বা সময়, কঠোর পরিশ্রম এবং অনেকগুলি স্তর পেরিয়ে একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়া পর্যন্ত আপনার সফলতাগুলি কি কি এবং ব্যার্থতা থাকলেও বলুন।

সফলতা প্রথম শর্ত হলো পরিশ্রম সে যে কোন পেশায় হোক। আমার কঠোর পরিশ্রম এবং অনেকগুলি স্তর পেরিয়ে একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়া পর্যন্ত যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা আমি এই শিল্পে প্রয়োগ করতে পারব। বীমা শিল্পেকে সেবা করার যে সুযোগ আমি পেয়েছি এটাই আমার সফলতা। বিমাশিল্পের কিছু সংবাদ আমাকে মর্মাহত করে তখন বিমা কর্মী হিসাবে নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়।

অর্থনীতির ৩০ দিন সম্পর্কে কিছু বলুন

অর্থনীতির ৩০ দিন পত্রিকাটি (ম্যাগাজিন) দেশের ব্যাংক, বীমা, শিল্প বিষয়কসহ তথ্যবহুল অর্থনীতি, দেশ ও সমাজ উন্নয়নের জন্য সু-পরিছন্ন একটি পত্রিকা। সাহিত্য সাংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ একটি জ্ঞানের ভান্ডার হিসাবেও ভাল ভুমিকা রাখার এবং পড়ার মানসম্মত পত্রিকা। শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের নিকট পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে বলে আশা করি।