খোন্দকার জিল্লুর রহমান
দুর্নীতি, স্বজনপ্রিতি, অনিয়ম আর দায়ীত্তহীনতা ও কর্ত্যব্যে অবহেলায় ডুবতে বসা বিমান হাবুডুবু খেতে খেতে যখন মুমুর্ষ অবস্থায় ডিমেতালে কোন রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে চলছিল, ঠিক এমণি অবস্থায় সারা বিশ্ব যখন করোনা মহামারীতে স্তব্ধ, যোগযোগ ব্যাবস্থা প্রায় ভঙ্গুর, এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সৌদি আরব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সাড়ে ৪ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ কোটি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকার সমান প্রায়। কেন বিমানকে এ জরিমানা গুনতে হয়েছে, কার বা কাদের অবহেলার কারনে এ জরিমানা – তা খুঁজে বের করতে গত ১১ জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
ফোনে যোগাযোগ করা হলে (ডিজিএম পিআর তাহেরা খন্দকার) কর্মকর্তা ভাল ব্যবহার না করে দায় এড়াতে গিয়ে জরিমানার ঘটনাটি ২০১৭ সালের বলে দাবি করছে বিমানের এই কর্মকর্তা। ২০১৭ সালের ঘটনাটি এত বছর পর কেন সামনে আসল, প্রশ্নের জবাবে উত্তর না দিয়ে বিব্রত বোধ করেন এবং ব্যাপারটি এড়িয়ে যান এবং বিমান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানবির আহমেদের সাথে যোগাযোগ করতে বলে দায়সারা উত্তর দেন এই কর্মকর্তা। এদিকে কেনই বা এখন তদন্ত কমিটি গঠন করা হল তা নিয়েও দেখা দিয়েছে রহস্য।
জনসংযোগ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন প্রকৃত বিষয় হল, যে ঘটনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স- কে উক্ত পরিমাণ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল তা ২০১৭ সাল ও তার নিকটবর্তী সময়ে সংঘটিত পুরাতন ঘটনা। যে বা যাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে এই জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল ঐ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলত, বিমানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসা মাত্রই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাপারটি এতবছর বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে নাই কেন তার কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেন নাই।
সৌদি আরবের জেদ্দা হেলথ ডিপার্টমেন্ট এর নিয়ম অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-জেদ্দা- ঢাকা রুটে পরিচালিত ফ্লাইটে “ওয়ান শট স্প্রে” নামক একটি জীবাণুনাশক দিতে হয়। যা বিমানের ফ্লাইটেও যথাযথভাবে দেয়া হয়। নির্ধারিত এই জীবাণু নাশক দেয়ার পর তার খালি টিউব গুলো নিয়ম অনুযায়ী জেদ্দা হেলথ ডিপার্টমেন্টের কাছে পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় বিমানের ঐ ফ্লাইটে কর্মরত কারো কারো অবহেলার দরুণ তা যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সংখ্যায় উপস্থাপন না করার কারণে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ মার্চ ২০১৭ ও তার নিকটবর্তী সময়ে এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনায় ওই জরিমানা আরোপ করে। উল্লেখ্য, জরিমানার টাকা ঐ সময়েই পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি তখন তদন্ত কার্যক্রম এর বাইরে রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কেন বিষয়টি তখন তদন্ত কার্যক্রম এর বাইরে রয়ে গিয়েছিল, কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নাই, কার অবহেলায় এই জরিমানা এর কোন সঠিক জবাব দেন নাই, বর্তমানে তদন্ত চলছে বলে দায় এড়িয়ে যান।
বিমানের আরেকটি সূত্র বলছে, এবছরের জুলাইয়ের প্রথমদিকে বিমানের যে বিশেষ ফ্লাইটটি সৌদি গিয়েছিল, সেটিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। বিমানের ওই এয়ারক্রফ্টটি সৌদি আরব পৌঁছার পর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে স্প্রে করেনি। ঘটনাটি সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসামাত্রই পরিদর্শনের পর পর ওই এয়ারক্রাফটকে এ জরিমানা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মো. গোলাম সারওয়ার, ব্যবস্থাপক গ্রাউন্ড সার্ভিস (এয়ারপোর্ট সার্ভিস) কে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপ-ব্যবস্থাপক প্রণব কুমার বড়ুয়া ও সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মো. মাছুদুল হাছান।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে তদন্ত সাপেক্ষে, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করতে তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।










