স্বস্তির তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সকে অস্থিরতার নেপথ্যে কারা ?

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
বীমাখাত দেশের অর্থনীতির একটা অংশ, উন্নত বিশ্বের প্রত্যেক দেশের বীমাখাত যারযার নিজস্ব জাতীয় আয়ে অর্থ্যাৎ জিডিপিতে ১৭%(সতের ভাগ)পর্যন্ত অবদান রাখে, যদিও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান ০.৫০% এরও কম হলেও বর্তমানে বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বীমা খাতের দুষ্ট প্রকৃতির কিছু লোক নিয়ম-কানুন জেনেও বীমা খাতকে নিজস্ব স্বার্থের হাতিয়ার বানাতে চায়। এদের মধ্যে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের একজন মোঃ মফিজ উদ্দিন।
কে এই মফিজ উদ্দিন?
তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠার পর থেকেই একজন উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডার হিসেবে সবার নিকট পরিচিত ছিলেন বর্তমানেও পরিচিত, যদিও ২০১৭ সালে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কেরেঙ্কারি নিয়ে বেশ আলোচিত হন, সেটা নাহয় না ই বললাম। কিন্তু একজন বিজ্ঞ ও জ্ঞানী লোক দীর্ঘ সময় থেকে একটা ইন্সুরেন্স কোম্পানির সাথে জড়িত থাকার পরও কোম্পানীর নিয়ম-শৃঙ্খলা আইডিআর এর প্রচলিত আইন সবকিছু জানা সত্ত্বেও কেন এই মুহূর্তে এসে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন, হয়তো অনভিজ্ঞ কারো প্ররোচনায় পড়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন তা বোধগম্য নয়। বীমা খাতের অনেকের মতে বিজ্ঞ এ লোকটি ঝামেলার কারণে বীমা খাত থেকে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হচ্ছেন বলে প্রতিমান। যেখানে বীমা আইনের সমস্ত নিয়মকানুন মেনে গত ১৬ই আগস্ট তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কথিত মফিজ উদ্দিন সাহেব উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে সাধারণ সভার সবকিছু সুন্দরভাবে দেখে শুনে মেনে নেয়ার দু’দিন পারহয়ে যাওয়া একটা সুন্দর পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পায়তারা করে স্বার্থ উদ্ধারের জন্য কারো প্ররোচনায় এ ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার সুশৃংখল কার্যক্রমের পুর্ণ অবস্থান এখানে তুলে ধরা হলো।
মোঃ মফিজ উদ্দিন সাহেব একজন বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। আইন-কানুন সবই তিনি জানেন। যে বিষয়টি তিনি পরিচালনা পরিষদের সাথে আলাপ করে জেনে নিতে পারেন অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আইনের ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। তিনি তা না করে কোম্পানী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কে বিতর্কিত এবং হেয় করার স্বার্থে উদ্দেশ্য প্রাণাদিত হয়ে এ ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদ এবং সাধারন শেয়ারহোল্ডার প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানালেও মফিজ উদ্দিন সাহেবদের কিছু আসে যায় না।
তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা রকম বিতর্কিত কর্মকান্ডের অনেক জনকেই দেখা গেছে, কিন্তু কোম্পানীর সুসৃঙ্খল কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় কেউ কোন ব্যতিক্রমিক কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে পারে নাই, যেমন,
২০১২ সালে আর আর সিকিউরিটিজ লিমিটেড সিকিউরিটি ডিপোজিটের জন্য তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া ১০ কোটি টাকার ইন্সুরেন্স গ্যারান্টি গ্রহণ করেন এবং কোন ফি প্রদান করেননি উক্ত কারন প্রমাণ হবার পর আইডিআরএ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব জয়নুল হুদা কে ওনাকে তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। তখন তিনি ০৪-০৩-২০১০ থেকে ১৮-০৭-২০১২ সাল পর্যন্ত তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশিকার আলোকে এজিএম এর ২৪ ঘন্টার পূর্ব থেকে ভোট প্রদান ও এজিএম এর ফ্লাটফর্ম খুলে দেয়া হয়েছিল। কোন ভোটার ভোট প্রদান করতে পারেননি এমন কোন অভিযোগ কেউ পেশ করেননি। ১৫-০৮-২০১৫ সকাল ১১:০০ টা থেকে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
এজিএম-এ অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদানের জন্যে গত ২২-০৭-২০২৫ তারিখে দৈনিক নয়াদিগন্ত ও দি নিউ এইজ পত্রিকায় প্রকাশিত কোম্পানীর ২৫তম বার্ষিক সাধারণ স
ভার নোটিশের মাধ্যমে লিঙ্ক (https://takaful.hisoftcloud.com) দেয়া হয়েছে এবং কোম্পানীয় ওয়েব সাইটে (takaful.com.bd) আপলোড করা হয় ও কোম্পানীর নোটিশ বোর্ডেও সাটানো ছিল। সর্বোপরি শেয়ারহোল্ডারদের বিও একাউন্টের ই-মেইলে ভোট প্রদানের লিঙ্ক দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন ভোটার ভোট দিতে অসুবিধার কথা কোম্পানীকে অবহিত করেননি।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানীর এজিএম অনলাইনে করার অনুমতি থাকায় ভোটর যে কোন স্থান থেকে এজিএম পরিচালনায় কোন বাধা নেই। যেখান থেকেই প্লাটফর্ম পরিচালনা করা হোক না কেন ডিজিটাল প্লাটফর্মে ভোট দিতে কোন ভোটারের কোন প্রকার অসুবিধা হবার অভিযোগ কেউ করেননি। কোম্পানীর উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের ভোটের পরিমাণ ১,৮৩,৬৫,১৪৬ শেয়ার। অন্মধ্যে ভোট পড়েছে ১,৮৩,৬৫,১৪৬, যার শতকরা হার ১০০টি। অপরদিকে পাবলিক শেয়ারহোল্ডারদের ভোটের পরিমান ২,৪২,২১,৮৩১ শেয়ার, অন্মধ্যে ভোট পাড়ছে ২,০৩,৫৭,৫৬৩। যার শতকরা হার ৮৪.০৫% ।
যেখানে ভোটারদের বিও একাউন্টে প্রদত্ত ই-মেইলে ভোটের লিংক দেয়া হয়েছে। সুতরাং যেখানে ভোটার ছাড়া কেউ ভোট দেয়ার সুযোগ নাই সেক্ষেত্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগের ভিত্তি থাকার কথা নয়।
যেহেতু বীমাকারীর পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৪ এর প্রবিধানমালা ১১(২) অনুচ্ছেদে উল্লোগ রয়েছে যে, একজন ভোটার ১০% এর বেশী ভোট দিতে পারবেন না।
তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানীর পেইড আপ ক্যাপিটালের পরিমাণ ৪২,৫৮,০৯,৭৭০ টাকা ও পেইড আপ শেয়ারের পরিমাণ ৪,২৫,৮৬,৯৭৭। তন্মধ্যে উদ্দ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারের পরিমাণ ১,৮৩,৬৫,১৪৬ এবং পাবলিক শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারের পরিমাণ ২,৪২,২১,৮৩১। পরিচালকদের মধ্যেও ৩ টি শ্রেণী রয়েছে। উদ্দ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, পাবলিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও স্বতন্ত্র পরিচালক। স্বতন্ত্র পরিচালকগণ কোন শেয়ার ধারণ করেন না। উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারগণ উদ্দ্যোক্তা পরিচালক নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন। অপরদিকে পাবলিক শেয়ারহোল্ডারগণ পাবলিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনে ভোট দেয়ার অধিকার রাখেন। উদ্দ্যোক্তাগণ পাবলিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে পারেন না একইভাবে পাবলিক শেয়ারহোল্ডারদেরও উদ্দ্যোক্তা পরিচালক নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। এখানে শেয়ারহোল্ডারদের ২ টি শ্রেণী ও পরিচালকদের মধ্যেও ২ টি শ্রেণী থাকায় উদ্দ্যোক্তা শেয়ার ও পাবলিক শেয়ার আলাদা রয়েছে এবং স্ব স্ব শ্রেনীর ভোটেই স্ব স্ব শ্রেণীর পরিচালক নির্বাচিত হয়, আইন অনুযায়ী শ্রনী ভিত্তিক মোট ভোটের সর্বোচ্চ ১০% ভোটেই একজন ভোটার ভোট দিতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, যেসকল বীমা কোম্পানী ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম ষ্টক এক্সচেঞ্জে লিষ্টেড নয় সেসকল কোম্পানীতে উদ্দ্যোক্তা ও পাবলিক শেয়ারহোন্ডারের বিভাজন নেই। কেবলমাত্র ঐ কোম্পানীর জন্যে মোট পরিশোধিত শেয়ারের ১০% হিসাব হয়, যার কারনে তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানী ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম ষ্টক এক্সচেঞ্জে লিষ্টেড সেহেতু তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানীর জান্য উদ্যোক্তা শেয়ারহোন্সার ও পাবলিক শেয়ারহোল্ডার আলাদা হিসেবে বিবেচিত হবে। বীমাকারীর পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা ২০২৪ এর আলোকে অভিযোগকারী প্রার্থীর ভোট প্রদানে বিবরণী সংযুক্ত করা হল। (কপি সংযুক্ত)

উল্লেখ্য যে গত ১৬-০৮-২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা ৭:০০ঘটিকায় অনুষ্ঠিত পরিচালনা পরিষদের ১৪৫তম সাভায় মোট ১৬ (ষোল) জন পরিচালকের মধ্যে ১৫ (পনের) জন উপস্থিত থেকে পরিচালনা পরিষদ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঘোষিত ফলাফলকে স্বীকৃতি দেয়, কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদে কোন বিভাজন নেই।
মফিজউদ্দিন সাহেবের গ্রুপে নির্বাচন করে জয়লাভ করা আবুল হাসেম (সজিব গ্রুপ) স্বীকার করেছেন নির্বাচন সুষ্ঠ হবার কথা।
বার্ষিক সাধারন সভা এবং নির্বাচনী স্বীকৃতির দু-দিন পর হঠাৎকরে গত ১৮-০৮-২০২৫ তারিখে মফিজ উদ্দিন কোম্পানীর চেয়ারম্যানকে এক চিঠিতে যানান, তিনি তাহমিনা আফরোজকে চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিয়ে মুলত নির্বাচন মেনে নিয়েছেন, কারণ তাহমিনা আফরোজ উদ্দ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে প্রার্থী ছিলেন।
পরিলক্ষিত বিষয় হলো বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভুমিকা থাকলেও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ এর নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন, কার্যক্রম, ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার সাথে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলনা।
সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হলো পরিচালনা পর্যদ সকলের স্বীকৃতি সাপেক্ষে ক্রুটিনাইজিং অডিটর এম আহমেদ এন্ড কোং এর ম্যানেজিং পার্টনার জনাব মো. আবুল কাশেম মজুমদার এফসিএ কোম্পানীর ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করে সার্বক্ষণিকভাবে সভার কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করেছেন এবং সেঅনুযায়ী একটি স্ক্রুটিনাইজার রিপোর্ট বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি)-এ সঠিক সময়ে জমা দিয়েছেন।
সুতরাং মোঃ মফিজ উদ্দিন সাহেব তাকাফুল ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কে হেয় করার স্বার্থে উদ্দেশ্য প্রণদিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা গ্রহনযোগ্য নয়বলে প্রতিয়মান।