গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের চার কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে চার কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশি মুদ্রার হিসেবে ৩২০ কোটি টাকারও বেশি। জলবায়ুসহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (ক্লাইমেট রেসিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জার্মান দাতা সংস্থা কেএফডাব্লিউয়ের সঙ্গে সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ইআরডি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম ও কেএফডাব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য (এশিয়া ও ইউরোপ বিভাগ) রোলান্ড সিলার।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) আওতায় প্রথমবারের মতো জলবায়ুসহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (ক্লাইমেট রেসিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা ও সাতক্ষীরার ২০ উপজেলায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা অতি নগণ্য। অথচ বাংলাদেশই জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন। একক দেশ হিসেবে প্রতিবেশী ভারত ও চীন সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। আশার কথা হচ্ছে, দেশ দুটি জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি বর্তমানে আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে আট কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর মধ্যে জিসিএফের চার কোটি ডলার পাওয়া যাচ্ছে অনুদান হিসেবে। এছাড়া জার্মানি সরকার অনুদান সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে আরও দেড় কোটি ডলার। আর বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করছে দুই কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।’
তথ্যমতে, প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় রাস্তা নির্মাণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। আবহাওয়া-সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিমূলক তথ্যের জন্য একটি জলবায়ুসহিষ্ণু অবকাঠামো উৎকর্ষ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এলজিইডি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
উল্লেখ্য, জিসিএফ জলবায়ু পরিবর্তন-সম্পর্কিত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) আওতায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত তহবিল। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টায় অর্থায়ন করা হয়।