নিজস্ব প্রতিবেদক
তারা বলেছেন, দেশি ব্যাংকগুলো এখন তলাবিহীন ঝুড়ি। এ খাতের দুর্নীতিবাজদের শাস্তি না দিয়ে নিশ্চিন্তে অবসরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শাস্তি দিয়ে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে কাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই টাকা জনগণের। ব্যাংক আইনের বিধি-বিধানগুলো ঘন ঘন বদলানো যাবে না। যারা দুর্নীতি করে, তাদের সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দিতে হবে, যা সবার কাছে দৃশ্যমান হয়।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। নাগরিক ঐক্য আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক হাফিজউদ্দিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল প্রমুখ।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, যতই কথা বলি কোনো লাভ নেই। তাদের কথাবার্তাকে ‘বাকোয়াস’ বলা হয়। দেশে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তারা সাহায্য করছেন। পুলিশ কখনও রাষ্ট্রে শান্তি আনতে পারে না। তারা শুধু সন্ত্রাসী ধরতে পারে। একমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোই আলোচনা করে রাষ্ট্রে শান্তি আনতে পারে।
আনু মুহাম্মদ বলেন, যে দেশের একজন অর্থমন্ত্রী বলেন চার হাজার কোটি টাকা কোনো টাকা নয়, সে দেশে দুর্নীতি হয় না- এটি একটি ভুয়া কথা। প্রতিটি দেশে সবচেয়ে সুরক্ষিত ব্যাংক হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর বাংলাদেশের সেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের রিজার্ভ চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশে কী পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে। শুধু প্রবাসীদের টাকায় এখন দেশের অর্থনীতি কোনো রকম চলছে।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে যা দুর্নীতি হয়, তার প্রায় সব টাকাই বিদেশে পাচার হয়ে যায়। বিদেশে টাকা পাচার হওয়া রোধে সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শাস্তি না দেওয়ায় দুর্নীতির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
জবাবদিহির অভাবে দুর্নীতি হচ্ছে মন্তব্য করে সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক হাফিজউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন প্রশ্ন ফাঁস আগেও হয়েছে তখন তা ঠেকানো যাবে না।
লেখক জাফর ইকবালের ওপর হামলা প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, র্যা গিংয়ের দায়ে ছাত্রলীগের যে কর্মীদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাদেরই কেউ হাবাগোবা দাড়িওয়ালা এই ছেলেকে দিয়ে ঘটনা ঘটিয়েছে কি-না, দেখতে হবে।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতি হচ্ছে। সব দুর্নীতির মূল কারণ সরকার।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার এখন জনগণের কথা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তারা এখন জনগণকে সোফিয়া রোবট বানাতে চায়। তারা চায় সরকার যাই শিখাবে জনগণ তা শুনবে এবং বলবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল বলেন, যে দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই, জবাবদিহির জায়গাটুকু নেই, সে দেশে দুর্নীতি হবেই।










