পরিচালনা পর্ষদ ও মূলধন ইস্যু
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
বিমা আইন মানছে না বেসরকারি সাধারণ বিমা কোম্পানি প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। বিমা আইন কার্যকর হয় ২০১০ সালে। তবে প্রায় আট বছরেও তা মেনে কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটিতে উন্নীত করেনি। অন্যদিকে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নির্দেশনাও মানছে না কোম্পানিটি। ফলে পর্ষদে শেয়ারধারী পরিচালকসহ চারটি পদ এখনও শূন্য রয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ও বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) মধ্যে বিদ্যমান আইনি জটিলতা এবং ব্যবসায়িক মন্দাবস্থার সুযোগ নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ ও মূলধন বিষয়ে আইনি নির্দেশনা উপেক্ষা করছে কোম্পানিটি।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিদ্যমান বিমা আইনে সাধারণ বিমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে কোম্পানিটি। মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার পরও মূলধন বাড়ানো হচ্ছে না প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের।
আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে কয়েক বছর আগে আইন প্রণয়নের আগে নিবন্ধন নেওয়া কোম্পানিগুলোকেও মূলধন ঘাটতি পূরণ করে পরিশোধিত মূলধন নির্ধারিত সীমায় আনতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। যে কারণে ২০১৭ সালের শেষদিকে নতুন নেতৃত্ব আসার পর কোম্পানিটিকে মূলধন-সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালনের জন্য আবারও তাগিদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইডিআরএ।
দায়িত্বশীলরা বলছেন, আইডিআরএর সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সমন্বয়ের অভাবে পরিচালনা পর্ষদ-সংক্রান্ত বিমা আইন লঙ্ঘন করেও পার পেয়ে যাচ্ছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। একইভাবে পরিশোধিত মূলধন বাড়লে কোম্পানির ওপর চাপ বাড়বেÑএমন অজুহাত দিয়ে বিদ্যমান মূলধন বাড়াচ্ছে না প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। তাই আবারও নির্দেশনা দেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
আইন লঙ্ঘনের কারণ সম্পর্কে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এমএ সালাম বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আপনি কিছু জানতে চাইলে ডিএমডির সঙ্গে কথা বলুন।’
কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) জাহেদুল ইসলাম (জাহিদ) বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিশোধিত মূলধন বাড়লে কোম্পানির ওপর চাপ বাড়বে। তারপরও আমরা পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আর বিমা আইন মেনে পর্ষদে ১২ জন উদ্যোক্তা ও ছয়জন শেয়ারধারী পরিচালক ও দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখা নিয়েও আইনি জটিলতা রয়েছে। তাই অনেক কোম্পানিই বিদ্যমান ওই আইনি বাধ্যবাধকতা মানতে পারছে না। পরিচালনা পর্ষদ বিষয়ে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে বিমা আইন মেনে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোকে ১২ জন উদ্যোক্তা পরিচালক, ছয়জন শেয়ারধারী পরিচালক ও দুজন স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে ২০ সদস্যের পরিচালনা পরিষদ গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে আইডিআরএ। ওই নির্দেশনাও উপেক্ষা করছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটিতে সব মিলিয়ে এখন ১৬ জন পরিচালক আছেন। একজন শেয়ারধারী পরিচালক ও তিনজন উদ্যোক্তা পরিচালকের পদ এখনও শূন্য রয়েছে। আর কোম্পানিটির ৯ পরিচালকই শেয়ারধারণকারী কোম্পানির মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালিন করছেন। সাধারণ শেয়ারধারী পরিচালক আছেন পাঁচজন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির দুই কোটি ২৭ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৩৩ দশমিক ২৭ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫২ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এদিকে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের কর-পরবর্তী মুনাফা শ্লথগতিতে বাড়লেও গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার গতকাল সর্বশেষ ১৪ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।












