ছোট গল্প : সম্পর্কের বন্ধন (দুষ্টি কলম)

Zillur Rahaman

কলমে : খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
১৮০৪২০২৫ সকাল…
তোমার মত একটা বুয়ার সাথে আর ঘর করতে ভালো লাগেনা, ডিজগাষ্টিং। কথাগুলি বলতে বলতে হন হন করে নিজের রুমের দিকে ঢুকে স্বজোরে দরজাটা লাগিয়ে আরো কি যেনো বিড়বিড় করে বলতেছিল অফিস ফেরত শাহেদ। দরজার বাইরে থেকে কথাগুলো স্পষ্ট বুঝা না গেলেও আমাকে নিয়েই শাহেদের যত অভিযোগ অভিমান, যা বলে শেষ করার মত নয়, যেনো আমি একটা ঘাটের মরা হয়ে দাড়িয়েছি। এই তো, কবছর আগেও শাহেদের (এখানে সব ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে) এরকম কোন স্বভাব বা বৈশিষ্ট লক্ষ্য করা যায় নাই। আমাদের বিয়ের বয়স প্রায় ১৩ পেরিয়ে ১৪তে পদার্পন করেছে সবেমাত্র। স্বাভাবিক ভাবেই রূপ লাবণ্য অনেকটা হারিয়ে দিনে দিনে আরো ঘাটতির দিকে ক্রমবর্ধমান এগিয়ে চলেছে, অস্বিকার করার কোন উপায় নাই, তার উপর পেটকাটা (সিজারে) জন্মনেয়া তিন বাচ্চার দায়িত্ব, স্কুলে নেওয়া আনা থেকে শুরুকরে শাহেদের অফিসের খাবার-দাবার, অসুস্থ শাশুড়ির ঔষধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে যেনো এক বেহাল অবস্থায় হাঁফিয়ে উঠেছে মনিকা।
স্বাভাবিকভাবেই সেই ষোড়শীর অনন্ত যৌবনা রূপ লাবণ্য আর আবেদনময়ী ভালোবাসা আগের মত নাই এবং থাকার কথাও না। সামনে বছর বছর বরং আরো ঘাটতির দিকেই। সারাদিনের পরিশ্রম, রাতের ক্লান্তি, সব এসে সিজারে জন্ম তিন বাচ্চার এলোমেলো চাপ যেনো একাকার করে দিয়েছে মনিকাকে! তাই এখন আর মনিকার প্রতি শাহেদের সেই আকর্ষণ নাই বললেই চলে! বউকে এখন বুয়ার মতই লাগে!
সকাল থেকে সবগুলো বাচ্চাকে নাস্তা করাও, স্কুলে পাঠাও, ঘরের বাকী সবার নাস্তা বানাও! এরমাঝে দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা! তারপর দুপুরের রান্না শুরু! এর মাঝে বাচ্চারা স্কুল থেকে আসা শুরু করে! আবার কাউকে নিয়েও আসতে হয়! সবই যেনো টানা দৈনন্দিন জীবনের রুটিন ওয়ার্ক।
দুপুরের খাবারের পর্ব শেষ হতে না হতে আবার বিকেলের নাস্তা! এরই মাঝে সময়মত এবাদত বন্ধেগী করার কথা না হয় নাই বললাম, কারন এটাতো সম্পুর্ণ নিজের। ধারাবাহিকভাবে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার সাথে সাথে বাচ্চাদের পড়া, রাতের খাবার, খুচরা বাজার, অসুস্থ সদস্যদের সেবা! এভাবে দিবা-রাত্রি অনবরত চলে! কখনো কখনো খুব ক্লান্তি মনে হলেও একটাই চিন্তা করি, স্বামী-সংসার থেকে শুরু করে সন্তান, শশুর, শাশুড়ি যা কিছু আছে সবইতো আমার, ঠিক তখনই ক্লান্তিটাকে আর ক্লান্তিই মনে হয় না। সবকিছু নিয়ে নিজেকে খুব সুখি মনে করি আর গুনগুনিয়ে বলি, ‘আমার মত সুখি কে আছে আর, আয় তোরা আয় দেখে যা…। আসলে আমি সংসারে টায়ার্ড হলেও কখনো রিটায়ার্ড হওয়ার কথা চিন্তাও করি না।’

আর এদিকে মিঃ শাহেদ? ভাব-ক্লেসহীন একজন নান্দনিক মানুষ হিসেবে নিজেকে আবিস্কার করতে করতে দেখেন যে সবই তো ঠিকঠাকমতোই চলছে! নিজের খেদমত থেকে শুরু করে বাচ্চাদের দেখাশোনা, বাবা মায়ের খেদমত সবই চলছেই! শুধুমাত্র সামান্য ব্যতিক্রম হলেই সিংহ পুরুষের তর্জন-গর্জন শুরু হয়! কখনো কি একটুও মনে হয় না যে আমিও রক্ত-মাংসে গড়া একটা মানুষ, ব্যাটারি বা বিদ্যুৎ চালিত কোন রোবট বা মেশিন নই, একটুও কি চিন্তা হয় না দীর্ঘ ব্যবহারে এসব রোবট বা মেশিনও নষ্ট হয়। আপন মানুষটিসহ পরিবারের কারোরই কি মনে হয় না যে কোন একটা সময়ে একাকিত্ব জীবন, বয়স, বংশানুক্রমিক ধারা বজায় রাখার তাগিদ, পারিবারিক প্রয়োজন, বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় একটু পরিসেবাসহ উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া এবং সম্পর্কের বন্ধনকে সুসংহত রাখার কথা ভেবেই এই মেয়েটিকে বিভিন্নভাবে ও বিভিন্নদিকে পছন্দ করে ঘরে আনা হয়েছে! তখন কি মনে হয় নাই যে, ২/৩ টা কাজের মানুষ রাখলেই এই কাজগুলো সঠিকভাবে আঞ্জাম দেয়া যায়! মনে রাখতে হবে, শারীরিক দুরত্বের চেয়ে মনের দুরত্ব কখনো বেড়ে না যায়। সম্পর্কে কখনো টানাপোড়ন চললে এটাকে বাহিৃকভাবে কাউকে বুঝতে না দিয়ে চলা যায় বটে, কিন্তু মনের সম্পর্কের দুরত্ব কখনো কারোর জন্য সুখকর হয় না, প্রকৃতভাবে মনতো কারো বাঁধা নয়, সবসময় সর্বদাই স্বাধীন।
বাস্তবতার নিরিখে বাহ্যিক লাবণ্য হারিয়ে যাওয়া শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্লান্ত বিপর্যস্ত মহিলাটিকে আর সেই অনন্ত যৌবনা হাস্যলাস্যময়ী লাগেনা! ঘরের চাইতে বাইরে সময় কাটানোই শ্রেয় মনে হয়! সব পুরুষ মানুষ একরকম না হলেও কখনো কখনো একটু মতানৈক্যের ফলে অসহ্য বেদনায় আহত মানুষটির কষ্ট মুখ দিয়ে উচ্চারিত হলে সেই সিংহ পুরুষের গর্জে উঠা চিরাচরিত ভাষা – বের হয়ে যাও ঘর থেকে, দরজা খোলা আছে! বাহিরের সৌন্দর্যে উন্মুখ সেই পুরুষ মানুষটির রাগের মাথায় মনে যখন যা আসে তাইবলে, তখন একবারের জন্যও কি চিন্তা আসেনা, আমি ভুল পথে হাটছি, চোখের নেশায় ঘরকে পর ভাবছি। তখন এ কথা মাথায় আসে না, ডুপ্লিকেট কখনো অরিজিনাল হতে পারে না এবং হয় না। এদিকে নিরবে নিঃশব্দে লুকিয়ে লুকিয়ে অশ্রু ঝরানো মহিলাটি বলতে পারেনা “আমার জীবনের অতগুলো বছর আমাকে ফিরিয়ে দাও। আবার আমাদের যারা ধর্ম চর্চা করেন, তারা খুঁজে খুঁজে স্বামীর অধিকারের বয়ান এবং হাদীস বের করলেও মিনমিনেভাবে হলেও কিন্তু স্ত্রী বা নারী অধিকারের হাদীস বা বয়ান এড়িয়ে চলেন এবং চলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু কেন, হাদীস বয়ানে তো এমন প্রার্থক্য হওয়ার কথা নয়।
হ্যাঁ আমরা নতুন কিছু করতে পারি, সবার ভিতরেই নতুনত্বের কিছু অনুভুতি যে জাগে না তা নয়। কিন্তু দীর্ঘ দিনের লালিত অভ্যাস পরিবর্তন করে একটু ভিন্ন অনুভুতির ছোঁয়া দিতে গেলেই উল্টো আবার কোন ঝামটি শুনতে হয় কি না? শুনতে হয় কিনা এত বছর পর আবার যে তোমার ভালোবাসা উথলে উঠলো কেন, নাকি বুড়ো বয়সে আবার ভীমরতি ধরল? ছোট বড় ছেলে মেয়ে আশেপাশে থাকলেতো আরো উপস্থিতভাবে অপ্রস্তুত হয়ে যেতে হয়। কারণ আমরা এবং আমাদের সংসার, পরিবার, সমাজসহ সবগুলো মানুষ লজ্জা, সঙ্কোচ এবং ব্যবধান কাটিয়ে এখনো সমালোচনার উর্ধ্বে উঠে আসতে পারি নাই। কবি কামিনী রায়ের কবিতা, ‘করিতে পারি না কাজ, সদা ভয় সদা লাজ, সংসয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে…।’ আমরা পাছে লোকে কিছু বলে সংকল্পে না থেকে পাশের লোকে কিছু বলে এই সংকল্পেই লজ্জিত হয়ে নিজেদের আড়াল করে রাখি। অথচ আমরা একই ছাদের নিচে থেকেও কখনো একসাথে খোলা আকাশটাকে দেখি না, দেখার চেষ্টা করি না, কখনো ঝর্ণা বা নদীর পাড়ে বসে বসে দুজনে একসাথে কফির মগ হাতে নিয়ে নির্ভরতার অনুভবে কাঁধে মাথা রেখে আঙ্গুলের স্পর্শে সুড়সুড়ি দিয়ে তৃপ্তি অনুভব করি না, এর বাইরেও আরো একটা জগত যে আছে, আমরা তা উপভোগের চেষ্টা করি না। আমরা কখনো জিজ্ঞেস করিনা” তুমি কেমন আছো? তোমার মন খারাপ নাকি? তবে কেন?” আমরা হাত ধরে বসে থাকি না! আমরা দৈহিক আকর্ষণ ছাড়া একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরি না…। আমরা বুঝি না, আমারা পুরো সময় সাথে কাটানোর পরও কেউ কাউকে সময় দেওয়া প্রয়োজন বোধ করি না। উভয়ে শরীরের দিক থেকে কাছে আসি হররোজ, কিন্তু মনের দূরত্ব যেন হাজার মাইল সমান্তরালে চলে যুগের পর যুগ অর্থ্যাৎ আজীবন। দৈহিক উপভোগের জন্যেতো যেমন রাতের রানীই যথেষ্ট, ঠিক তেমনি রান্নার জন্যও কাজের বুয়াই পারফ্যাক্ট, যদি অন্য দৃষ্টিতে তাদের ব্যবহার না করে থাকি, আসলে অনেক কিছুই যেন চোখের সামনে চলমান, যার বর্ণনা যুগ যুগ ধরেও শেষ করা যাবে না। এতকিছুর পরেও দিনের শেষে আমি, আমরা একা, একান্তই প্রত্যেকে একা এবং একা…। কখনো নিঃশ্বাস ফেলতেও একাকিত্ব অনুভব করি। আবার এটাও ফেলে দেওয়া যায় না যে আমাদের ধর্মীয় অবস্থা এবং ইসলামিক পর্দানুশীলতাও আমাকে আমাদেরকে অনেকটা আবদ্ধ করে রেখেছে।
মানুষের ভিতর বা মানুষে মানুষে যখন দূরত্ব তৈরি হয় তখন নিকটতম মানুষটি কাছে থাকুক, পাশে থাকুক এমনকি চোখের সামনে থাকলেও উভয়ের মাঝে তবুও একটা স্নায়ুবিক দূরত্ব থেকেই যায়। আর এই স্নায়ুবিক দূরত্ব বেশ অন্যরকম! বলা যায় না! বুঝানো যায় না! সহ্যও করা যায় না! কখনো কখনো কারোর বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে থেকেও মাঝে মাঝে নিজেকে কতটা যে একা একা লাগে তা বলে বুঝানো যায় না! মনেহয় যেন কথাগুলি বার বার মনে আসে এবং বার বার বলি, আরো মনে হয় কথাগুলি আমি ব্যতীত প্রত্যেকটা মানুষের মনের কথা, আমি সবার কথাগুলো শুধুশুধুই মানুষের মনের সাধারন চিন্তার আয়নাতে তুলে ধরেছি মাত্র। আবহাওয়াগত ও আমাদের মনোগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দাম্পত্য জীবনে আমি ও আমরা আসলে কি চাই? আবার কোনটাই বা না চাই, সবটাই চাই, বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সবাই যা যা করে!
পুরো সময়তো গেলো আমার কথা, কিন্তু নারীদের বেলায়? নারীরা কখনোকি স্বীকার করে যে, বাস্তবতায় নারীরাও পরিবারের প্রতিটি পুরুষদেরকে অধিক দহনে দাহ করে রাখে। যা সংসার, পরিবার থেকে সমাজের সর্বস্তরে পর্যন্ত পুরুষদের চাপা আর্তনাদে বেরিয়ে আসে। তবে অভ্যন্তরীণভাবে নারীদের দ্বারা পুরুষদের দাসত্বাবস্থার উষ্ণ অশ্রু, যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে এই নির্মমতা কখনো দেখা যায় না। প্রতিটি মানুষের জন্যই আমার লিখাটি অন্তত একবার হলেও পড়া আবশ্যক বলব না কিন্তু পড়লে সবাই উপকৃত হবেন বলে আশা করি…।
লেখক জার্মানির এসথার ভিলার্সের বই ‘দ্য ম্যানিপুলেটেড ম্যান’ যে কোন না কোন লোককে তার বইটি পড়তে হবে বলেছেন, লেখক তার বইটিতে নারীরা কিভাবে তাদের ইচ্ছাশক্তি এবং নিবৃত ফ্যাসিষ্ট সাইকোলজিতে একজন পুরুষকে তাদের শৃংখলে কারাবদ্ধকরে রাখে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এই বইটি মহিলাদের কাছ থেকে ক্ষোভ এবং শত্রুতামূলক সমালোচনার কারণ হয়েছে, এটি ব্যাখ্যা করে যে, কীভাবে নারীরা আদিকাল থেকে পুরুষদেরকে চালিত করেছে এবং তাদের দাসে পরিণত করেছে, তারা নির্যাতিত হওয়ার ভান করেছে। যদিও প্রকৃত অর্থে তারা নিজেরাই নিপীড়ক। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী কীভাবে একজন মহিলা একজন পুরুষকে দক্ষতার সাথে কোর্টশিপ এবং অবশেষে বিবাহের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিচালনা করে, অর্থ্যাৎ “একজন পুরুষ একজন মহিলাকে তাড়া করে যতক্ষণ না সে তাকে ধরে ফেলে”।
আল্ কোরানের ভাষায় আমরা আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টির অন্যান্য সকল কিছুকে বাদ দিয়ে হলেও মানুষ মানুষের মূল্যায়নের দিকটাও কখনো কি একবারও ভেবে দেখেছি? সেটা আত্মীয়তার সম্পর্ক হোক, হোক ভাই বোনের বা ছেলেমেয়েসহ পারিবারিক সম্পর্ক এমন কি হোক সেটা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, যেখানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কতো আরো স্পর্শ কাতর, যে সম্পর্কে অনেক সময় কোন বাঁধ মানে না। কিন্তু আমরা মানুষ শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থটাই বেশি দেখি এবং দেখতে চেষ্টা করি, কেউ কাউকে অনুভব করি না। পরিবার নিয়ে লিখতে গেলে বা লিখতে চিন্তা করলে মনেহয় যেনো সবকিছু শুধু নিজের ইচ্ছেমতে।

একটা প্রবাদ আছে, “খেলতে খেলতে খেলোয়াড় আর লিখতে লিখতে লেখক।” ইচ্ছে হলেই লিখা যায় না। পরিবার নিয়ে লিখব, কিন্তু কি লিখব? মাথায় কোন কিছু কাজ করেনা। সব উলট পালট লাগে… সব কিছু থাকার পরেও ভীষণ একা লাগে মাঝে মাঝেই, নিজেকে কেন আপন করে নিতে পারি না। একইসাথে থেকেও যেনো চাহিদা ব্যতীত দুরত্বই বেশি… কিন্তু কেন? বেশির ভাগ সময়ই আমরা শারীরিক চাহিদা ছাড়া কিছুই বুঝিনা। কিন্তু কেনো, আমরা কি নিজেরা ভালোবাসা দিয়ে নিজেদেরকে আলিঙ্গনে রাখতে পারি না? সম্পর্কের এই লোকটিতো তার ২০/২৫ বা ৩০ বছরের লালিত স্বপ্নকে বিচ্ছিন্ন করে এককভাবে নতুনত্বের অবস্থানে সারা জীবনের জন্য চলে এসেছে। আমরা এরও মূল্যায়ন করতে পারি না। আসলেই কি আমরা হৃদয়হীন রুষ্ট মানুষ? ভালোবাসা কি একতরফা হয়?। একই ছাদের নিচে একটা রুমে বছরের পর বছর একই খাটে ঘুমালেও প্রয়োজনের সময়টুকু ছাড়াও আপন হওয়া যায়। মুল্যায়ন করতে গেলে, কৃত্রিম সুখ পরিহার করে নিজেদের সুখ উপলব্ধি করা বা আভিধানিক সুখ উপভোগ করাটা সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যপার, যা কেউ কাউকে দিতে পারে না। কখনো কখনো জীবনে কেউ আসে কেউ চলেও যায়। আবার দীর্ঘ সময়ের একাকিত্ব মানুষকে অসহায় করা ছাড়াও মানষিকভাবে ভাবিয়ে তোলে। কিন্তু কি করব, কিছু না বুঝে উঠতে উঠতেই মনে হয়, ‘আমরা মানুষ, সেকি শুধু ভুল, তবে ভেঙ্গেচুরে দাও, ধুয়ে মুছে দাও মানুষ তো নয় যেনো নাচের পুতুল, এই পৃথিবী আমার…।’
লেখক : প্রতিবাদি কবি, কথাসাহিত্যিক, সব্যসাচী লেখক, সম্পাদক প্রকাশক অর্থনীতির ৩০ দিন।