অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
এসডিজি অর্জনে ধানভিত্তিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থাপনা কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এর জন্য কতটুকু অর্থ সহায়তা প্রয়োজন এ নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইরি) যৌথভাবে “মবিলাইজিং রিসোর্সেস ফর রিসার্স ফর ডেভেলপমেন্ট (আর৪ডি) ইন রাইস বেজড এগ্রি ফুড সিষ্টেমস টু এচিভ এসডিজিস ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক এক পরামর্শক সভার আয়োজন করে।
পরামর্শক সভায় বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাংলাদেশ ধানভিত্তিক কৃষিখাদ্য ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও বিনিয়োগে জোর দিতে হবে। বিনিয়োগের জন্য যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থসংস্থানে গুরুত্বারোপ করতে হবে। কার্যকর বিনিয়োগ ও সঠিক গবেষণা ছাড়া কৃষি টেকসই হবে না।
পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দাতা সংস্থার দেশীয় প্রতিনিধিবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং উইং চিফ সুলতানা আফরোজের সভাপতিত্বে এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ।
এম এ মান্নান বলেন, ধান উৎপাদনের সঙ্গে এসডিজি ও দারিদ্র বিমোচনকে সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে বিজ্ঞান, গবেষণা ও বিনিয়োগকে সমন্বয় করতে হবে। তবে বাংলাদেশের উন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় দেশী বিদেশী বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাথে একসাথে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার কৃষি খাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের দ্বারা উদ্ভাবনী কৃষি খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণের মাধ্যমে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করছে। সেই সাথে দারিদ্র বিমোচনসহ গ্রামীণ জীবন জীবিকা উন্নয়নে কাজ করছে ।
সভায় ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের নীতিমালাসমূহের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক পত্র উপস্থপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম। তিনি বলেন, কৃষিকে টেকসই করতে জিডিপির নূন্যতম ১ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকিকরণ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ পানি ব্যবস্থাপনা এবং নদী রক্ষা করতে হবে। কারণ কৃষির ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে শূণ্য দশমিক ৫ শতাংশ দারিদ্র কমে। তাই কৃষি ক্ষেত্রে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবন আনতে হবে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। খরা, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করতে হবে।
এছাড়া ‘ধান ভিত্তিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং যেসব ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইরি) অবদান রাখতে পারে’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ইরির দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধি ড. নাফিস মিয়া। অন্যদিকে ‘বাংলাদেশ-ইরি পঞ্চবার্ষিক (২০১৮-২৩) কর্মপরিকল্পনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবর্তন আনয়ন’ শীর্ষক নিবন্ধ উপস্থপন করেন ব্রি মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর।
তিনি বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ-ইরি পঞ্চবার্ষিক (২০১৮-২৩) কর্মপরিকল্পনা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে ধানভিত্তিক কৃষি খাদ্য বব্যস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগের জন্য যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থ সংস্থান করা সম্ভব হবে।
কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, জমি কমে যাওয়া, জনসংখ্যার বৃদ্ধি, অর্থায়নের ঘাটতিসহ নানান প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কৃষিতে, তবে সম্ভাবনাও কম নয়। জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে আউশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে এখন খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ন বাংলাদেশ। যদিও জনসংখ্যার পরিমান নিয়ে তথ্যগত কিছুটা বিভ্রাট রয়েছে। যা আমাদের খাদ্য উৎপাদনের পরিকল্পনায় কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অর্থায়ন ঘাটতি মেটানো হচ্ছে। যান্ত্রিকীরকরণ বাড়াতে কৃষককে ভর্তূকি সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে।










