খোন্দকার জিল্লুর রহমান :-
কুমিল্লার পুজা মন্ডপে পবিত্র কোরান শরিফ রাখা নিয়ে ঈশপের গল্পের আদলে বলতে হয়, শকুন ছানা তার মায়ের কাছে মানুষের গোশত খাওয়ার আবদার করলে, শকুনি গরু ও শুকরের গোশত সংগ্রহ করে এনে দেয়, কিন্তু শকুন ছানা তা চিনে ফেলাতে শকুন তার ছানার নিকট অপরাধী হয়, নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে নিজের অপরাধবোধ গুছানো এবং নিজের ছানার মানুষের গোশত খাওয়ার আবদার মিটাতে গিয়ে নিজের কু-বুদ্ধিকে কাজে লাগায় এবং মসজিদের সামনে শুকরের গোসত আর মন্দিরের সামনে গরুর গোশত রেখে আসে। যা থেকে সৃষ্ট ধর্মীয় দাঙ্গায় অনেক মানুষ হতাহত হয় আর শকুনের দল আঁশ মিটিয়ে মানুষের গোশত খায়। কুমিল্লার পূজামণ্ডপে মূর্তির কোলে পবিত্র কুরআন শরিফ রাখার ঘটনার সাথে এরকম রাজনৈতিক শকুনরাই সম্পৃক্ত বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে। ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অপ-চেষ্টাকারী এইধরনের শকুনদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবী জানাই।
একটা গনতান্ত্রিক দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে যখন দেখি গত কবছর ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অতি উৎসাহি মাংসাশি শকুন নিরপরাধী মানুষকে অপরাধী বানিয়ে, প্রায় তিন বছর আগে মৃত ও চার বছরেরও বেশী সময়থেকে বিদেশে অবস্থানকারী লোককে ভোট দিতে ও গাড়িতে আগুন দিতে দেখে তার বিরুদ্ধে ভিযোগ দায়ের করে, এসব বিতর্কিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট সুষ্ঠ তদন্ত চাওয়া আর বলদ গরুর কাছে দুধ পাওয়ার আশা একই রকম নয় কি? তাই কবিতার ভাষায় বলতে হয়…
বিচারের বাণী আজ নিবৃতে কাঁদে ন্যায় বিচারের কাছে,
ন্যায় বিচারক নেই বুঝি আজ কুটি জনতার মাঝে…।
সর্বশেষে আবারও বলতে হয়, ক্ষমতার লোভে নির্বোধ না হয়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অপ-চেষ্টা না করে এইধরনের শকুনদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে রাষ্ট্রীয় শান্তি, এবং সাম্প্রদায়ীক সম্প্রিতি বজায় রাখার জন্য সরকারেরর নিকট জোর দাবী জানাই।











