চট্টগ্রামের হামিদচরে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ওয়ার্ড কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকার হামিদচরে হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি। ১০৬ একর জমির ওপর ৯৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এরই মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদন হলেই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা। ২০২১ সাল নাগাদ প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্নের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নদী, উপকূলীয় ও মহাসাগরীয় আইন এবং প্রকৌশলের ওপর সাতটি অনুষদের অধীনে ৩৮টি বিভাগ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২০১৩ সালে ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সারা পৃথিবীতে মাত্র ১২টি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ সাফল্যের হাত ধরে এ এলাকায় শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানামুখী সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উšে§াচন হবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে নতুন রূপ লাভ করবে। এ প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করবে। মেরিটাইমবিষয়ক বিভিন্ন দেশের শিক্ষকরা এখানে পাঠদান করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে সহায়ক অংশগ্রহণ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রকল্পসংলগ্ন খালে একটি কালভার্ট ও শিল্প এলাকার সড়কটির আধুনিকায়ন করা হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, মেরিটাইমের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা ও উন্নয়নের কথা বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলে মেরিটাইম বিষয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরিতে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে জনবল কাঠামো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৭৮৭ জন শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেরিটাইম ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।