

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
বীমাখাত নিয়ে (লাইফ-ননলাইফ) দীর্ঘ দিন থেকে বেহাল অবস্থা চলে আসলেও এ ব্যপারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(আইডিআরএ)’র নামেমাত্র দুএকটা ব্যবস্থা ছাড়া কোনরকম কার্যকরি ভুমিকা আছে বলে তেমন কোনো লক্ষন পরিলক্ষিত হয় বা হয়েছে বলে এতদ সংশ্লিষ্ট কেউ মনে করার কোনো প্রমান পাওয়া যায় নাই। আবার অন্যদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়েও প্রকাশ্যে সাহস করে কোন বক্তব্য বা কোনো কিছু না বললেও তিনি অনেকের সমালোচনার উর্ধে থেকে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন বলেও অশুদ্ধ বলা যায় না, অনেকে বলেন, তিনি নাকি কোনো এক নিয়ন্ত্রক শক্তির হাতের ক্রীড়ানক হিসাবে কর্মদক্ষতা পালন করে যাচ্ছেন, সেই সাথে উর্ধতন কর্মকর্তা ও মেম্বারদের কারো কারো দূর্নীতির নিকট অতিত ইতিহাসকেও কোনো অবস্থায় বাদ দেওয়া যায় না যা বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া,পত্র পত্রিকা ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সকল গনমাধ্যমের বদৌলতে সাধারন জনগনের মুখেমুখে উঠে এসেছে। উদাহরন স্বরুপ, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বহিষ্কিৃত সিইও জহিরুদ্দিনের নিকট বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র লাইফ মেম্বার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের অনৈতিক ভাবে একক ও মাসিক নিয়মিত ঘুষ চাওয়ার ব্যাপারটি যেমন ফলাও ভাবে প্রকাশিত হয়, আসলে যতবড় পদ ততবড় দূর্নীতি। আবার কেহ কেহ মতামত দেন যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র এহেনো অপরাধ বীমা খাতের দূর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করে।
সঙ্গত কারনেই বাংলাদেশের ইন্স্যুরেন্স সেক্টর শেষ পর্যন্ত কোম্পানীগুলির মালিকদের চিহ্নিত লুটপাটের চারন ভুমিতে পরিনত হল বলে জনসাধারনের নিকট প্রতিয়মান। বিভিন্ন পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী গত ১০/১২ বছরে বীমা খ্যাতের অব্যবস্থাপনা, লুটপাট এবং হযবরল চিত্র, বিশেষ করে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির চেয়ে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির কর্মকর্তারাই বেশি প্রমান করেছেন, এটা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির কর্মকর্তাদের অবস্থা থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। আর বর্তমানে বীমা খাতের অভিভাবক হিসাবে আইডিআরএ কতটুকু দায়িত্বশীল তা বিভিন্ন মহলে বিতর্কিত। বিশেষ করে লেজুড়বিত্তি, অযোগ্যতা, অদক্ষতা, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ বড় বড় পদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগন এবং নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার প্রধানদের কারন-ই বীমা খাতে এ অবস্থার জন্য দায়ী বলে বিশিষ্টজনরা মতামত দেন। কেহ কেহ বলেন, সরকারের জবাব দিহিতা না থাকার কারনে নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার প্রধানরা নিজেদের মধ্যে কৌশলে আরেকটি গোপন সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেদের রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের বীমাখাতের উন্নয়ন না দেখে স্বীয় স্বার্থ হাসিলে মসগুল। অনেক সময় এদের কাউকে কাউকে চিহ্নিত করা গেলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে এরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সুযোগ সন্ধানীরা তখন সুকৌশলে সেই সরকারের ভেতরে ঢুকে রাষ্ট্রের চলমান অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে নিজেরা স্বার্থ হাসিলে তৎপর হয়ে ওঠে, এদের অবস্থান খুবই শক্ত। যা একটা উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। সরকারও নাকি এদের থেকে সুযোগ সুবিধা (আর্থিক ও রাজনৈতিক) আদায় করে থাকে, যার ফলে সরকার প্রকৃত অপরাধীদের বের করে শাস্তির আওতায় আনতে পারে না এবং আনেনা।

যদিও আমাদের বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সংখ্যা লাইফ নন-লাইফ মিলিয়ে অনেক বেশী সেই তুলনায় যোগ্য ও অভিজ্ঞ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সংখ্যা নিতান্তই একদিকে যেমন কম বলা যায় অপরদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৈরি করার ক্ষেত্রে আইডিআরএ’র ভূমিকা সম্পূর্ন বিপুরীতমুখী। এখানে কোন বিনিময় ব্যতীত নিয়োগ অনুমোদনসহ কোন নিয়মতান্ত্রিক বা স্বাভাবিক কাজ সম্পন্ন হওয়ার নজির তেমন একটা নাই বললেও ভুল হবেনা। যদিও দু-একটা হয়, তাও আবার বহু হয়রানি এবং বহু কাল ক্ষেপনের প্রমান পাওয়া যায়। আর এতে করে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যোগ্য লোকের যোগ্য স্থান/পদ এর পরিবর্তে অযোগ্যদের পদায়ন হওয়ার কারনে বীমাখাতে আজকের এই অবস্থার সৃষ্টি। টেকনিকেল যে ব্যাপারটা উল্লেখ্য না করলেই নয়, একটা কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি)পর্যন্ত ক্ষমতাশীল স্থায়ী পদ, যদিও এএমডি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি)’র নিকট দায়বদ্ধ। এরপর কোম্পানিগুলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা/ সিএফও যেটাই বলি এ পদটা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেও প্রকৃত পক্ষে এ পদটা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী পদ নয়, তার কারন হল কোম্পানিগুলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা/ সিএফও পদে যারা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র থেকে নিয়োগ অনুমোদন পান তা চুক্তিভিত্তিক এবং নবায়নযোগ্য পদ। আর এ পদে কোম্পানিগুলির চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্যদ কৌশলে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য নিজেদের বলয়ের লোককে সিলেকসন দিয়ে নিয়োগ অনুমোদনের জন্য বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র নিকট পাঠান। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষও অনেক সময় নিয়োগ অনুমোদনের সবশর্ত যাচাই বাচাই না করে ভিন্ন কিছু সুবিধা আদায় করে নিয়োগ অনুমোদন গ্রহন করেন। পরবর্তিতে শুরু হয় চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং এমডি/ সিইওদের যোগসাজসে দুর্নীতি ও লুটপাটের মহাউৎসব। কখনো কখনো আবার কোন কোন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নীতির সাথে আপোষ করতে না পারলে তিনি সইচ্ছায় পদত্যাগ করেন অথবা কোম্পানির পরিচালনা পর্যদের চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।
বীমা খ্যাতের অব্যবস্থাপনা, লুটপাট এবং হযবরল চিত্র অতি মাত্রায় উপনিত হয়েছে যে, তার প্রমান দুর্নীতির দায়ে দুদকের জালে আটকা পড়া, ঘুষ, অবৈধ আয়সহ প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসা করা ও নানান অপকর্মের কারনে অর্থনীতির ৩০ দিন বিডি ডটকমে ৭/৮ পর্বের ধারাবাহিকসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকার ধারাবাহিক নিউজের কারনে গত ১৪ জুলাই ২০২২ বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ(আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান ড, মোশারফ হোসেন পদত্যাগে বাধ্য হওয়া। এখানে সুক্ষ চিন্তার বিষয় হল, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের অবকাঠামো, ক্ষমতা এবং নীতির পরিবর্তন না করে একের পর এক পরিচালক, চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং সদস্য নিয়োগ বিমাখাতের জন্য কতটুকু উপযোগী হয় ও হবে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হলেও সাবেক পদত্যাগী চেয়ারম্যান ড, মোশারফ হোসেনের স্থলাভিষিক্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বেহাল বিমাখাতকে উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রনে আনতে পেরেছেন বলে প্রমানিত হয় নাই বলে খাত সংশ্লিষ্ট অনেকেই মতামত ব্যক্ত করেন।
ধারাবাহিক চলবে…










