
ব্রিগেডিয়ার

ব্রিগেডিয়ার
বর্তমানে জীবন বীমা কোম্পানীগুলিতে যে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তার পিছনে মালিকপক্ষের অনাকাঙ্খিত ব্যক্তিগত প্রভাব, বীমাখাতে শৃঙ্খলা এবং শুরুর দিকে সঠিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকির অভাব অন্যতম।
আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আনোয়ার শফিক, এনডিসি, পিএসসি (অবঃ), এমএসএস, এমবিএ, এমফিল, পিএইচডি। তিনি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ১৬তম বিএমএ লং কোর্সে যোগদান করেন এবং ১৯৮৭ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এ কমিশন লাভ করেন।
শিক্ষাগত জীবন: শিক্ষাগত জীবনে তিনি সফলভাবে মাস্টার্স ইন সোস্যাল সায়েন্স, মাস্টার্স ইন বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, স্ট্রাটেজি এন্ড ডেভেলপমেন্ট এ এমফিল এবং ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস্ এ পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ এর একজন গ্র্যাজুয়েট ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ হতে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস হোম অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স থেকে অ্যাডভান্স ইন্টেলিজেন্স এর উপর বিরল সম্মানজনক গ্রাজুয়েশন এবং ডিপ্লোমা ডিগ্রিও অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটি (ইউকে) এর অধীনে ‘Managing efense in Wider Security Context কোর্স, ‘Governance of National Security and Defense‘ কোর্স, ‘Strategic Leadership‘ প্রোগ্রাম এবং ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড এর অধীনে ‘Intelligence Co-operation Exchange Program‘ সম্পন্ন করেন। এতদ্ব্যতীত জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত (United Nations Institute for Training and Research in Peace Keeping) ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজ কোর্সসহ মোট ১৯টি কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি শীর্ষস্থান ও উচ্চ গ্রেডিং সহ দেশে এবং বিদেশে বহু সংখ্যক কোর্সে মেধাস্বত্বের উজ্জ্বলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সেনা রচনা প্রতিযোগিতা-২০০৯ এ সমগ্র সেনাবাহিনীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ সংখ্যক রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম। সেনাবাহিনীর মৌলিক প্রশিক্ষণ পুস্তিকা (General Services Training Pamphlet) রচনা সহ বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে তার গবেষণাধর্মী আর্টিকেলসহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা রয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মোঃ আনোয়ার শফিক (অবঃ) তার বর্ণিল কর্মময় জীবনে সকল রেজিমেন্টাল নিয়োগের পাশাপাশি কমান্ড, স্টাফ ও ইনস্ট্রাকশনাল এ্যাপোয়েন্টমেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি সেনাসদর এবং সদর দপ্তর ডিজিএফআই এ স্টাফ অফিসার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া তিনি সামরিক গোয়েন্দা স্কুল ও এনসিও’স একাডেমিতে সিনিয়র প্রশিক্ষক হিসাবে এবং বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রী রেজিমেন্টাল সেন্টারে ডেপুটি কমান্ড্যান্ট ও বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজে কমান্ড্যান্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ইতিপূর্বে তিনি সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর অধীনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বিজিবি এর ৫৬ টি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের (একাডেমিক প্রোগ্রামসহ সার্বিক মান উন্নয়ন ও তত্ত্বাবধান) পরিদর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া সেনাবাহিনীর স্বনামধন্য রেজিমেন্টসহ একাধিক বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার, সেক্টর কমান্ডার ও সমগ্র উত্তর বঙ্গের রিজিয়ন কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সারজেন্সি অপারেশনে একাধিকবার সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ২০১০ হতে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ এ কর্মরত থাকাকালীন নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত এলাকায় জাতীয় পর্যায়ের স্থল সমীক্ষা ও বৈঠকের মাধ্যমে “বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি”র বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি “বাংলাবান্ধা” আইসিপির উদ্বোধনী আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ স্টেক হোল্ডার ছিলেন। এছাড়া বর্ডার হাট পরিচালনা,ক্রস কালচারাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সহ বিএসএফের তৎকালীন বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সাথে সীমান্ত সমস্যা সমাধান সম্পর্কিত Strategic Estimate তৈরিতেও অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও তিনি জাতিসংঘের অধীনে ইরাক-কুয়েত মিশনের প্রথম কন্টিনজেন্ট এবং আইভরি কোস্ট এ চিফ অব স্টাফের সামরিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইতিপূর্বে তিনি সেনা কল্যাণ সংস্থার সর্বশেষ DMD হিসাবেও বহুসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম সরাসরি তত্ত্বাবধান করেছেন। তিনি সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর Vice Chairman হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, আজকের আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী গঠনের শুরুতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মোঃ আনোয়ার শফিক এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
কিচুক্ষনের আলাপ-আলোচনায় আস্থা লাইফ সিইও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. মো: আনোয়ার শফিক এর সাথে…
খোন্দকার জিল্লুর রহমান : বীমা শিল্পে আসার পর আপনার প্রথম জীবনের অভিজ্ঞতা বা প্রথম জীবনের দিনগুলি কেমন ?
বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:)ড. মো: আনোয়ার শফিক: বীমাশিল্পে আমার প্রথম পদচারণা প্রকৃত অর্থে ২০১৩ সালে যখন আমি সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাই। বীমাশিল্পে পদার্পণের পর প্রথমেই যে বিষয়টি লক্ষ্য করি সেটি হলো সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সংকট। সেজন্য আস্থা লাইফে যোগদানের পর প্রথমেই বীমা শিল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করি। বিশেষ করে শুরু থেকেই আমি চেষ্টা করেছি সেবাধর্মী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রাহকসেবা, বীমা দাবি পরিশোধ, সততা, নিষ্ঠা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে মানুষকে বীমা সুবিধা প্রদান করতে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে প্রধান শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনসহ উন্নত প্রযুক্তি সংযোজন এবং সময় উপযোগী বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে শুরু থেকেই দেশের বীমা শিল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি ও বৃহত্তর পরিসরে বীমা শিল্পের তথা দেশমাতৃকার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
আপনার মতে বীমা শিল্পের প্রতি আমাদের দেশের সাধারন মানুষের নেতিবাচক ধারনার এবং বীমা শিল্পের চাকুরিতে আসতে না চাওয়ার কারন কি এবং কেন?
বীমা শিল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণার কারণগুলোর মধ্যে বীমা দাবি নিয়ে ভোগান্তি, সঠিক সময়ে বীমা দাবি পরিশোধ না করা, শৃঙ্খলার অভাব এবং আস্থার সংকট উল্লেখযোগ্য। জনগণ এখনো মনে করে যে, বীমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম নেয়ার সময় তৎপর থাকে কিন্তু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময় কালক্ষেপণ বা চাতুরীর আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। এ সমস্ত কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা কোম্পানী কর্তৃক প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কাজ করে। এছাড়া বীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতার কমতি রয়েছে। সঠিক ও অনিয়মিতভাবে বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করা পরবর্তীতে বীমাদাবি পাওয়ার একটি অন্যতম শর্ত এটি অনেকেই বুঝতে পারেন না। তাছায়া বীমা পলিসি তে কি কি ঝুঁকি বীমাদাবির বিপরীতে অর্ন্তভুক্ত তা সাধারণ মানুষ জ্ঞাত নয়। নানাবিধ নেতিবাচক ধারণার প্রেক্ষিতে বীমা শিল্পের চাকরিতে আসতেও অনেকের অনীহা রয়েছে। অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্বল্প বেতন কাঠামো, চাকরির ভবিষ্যৎ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম হওয়ায় বীমা পেশাটি অনেকের কাছে ক্যারিয়ার হিসেবে আকর্ষণীয় হয়নি।
চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের এত ছোট্ট একটা দেশে এতগুলি বীমা কোম্পানী, শোনা যাচ্ছে আরো কয়েকটা কোম্পানী অনুমোদনের অপেক্ষায় পাইপ লাইনে, প্রকৃতভাবে এতগুলি কোম্পানীর প্রয়োজনীয়তা আছে কি ?
বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৫টি লাইফ এবং ৪৬টি নন-লাইফ সহ মোট ৮১টি বীমা কোম্পানি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই সংখ্যাটিকে সাধারণভাবে অধিক মনে করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে, আইনগত কারণে আমাদের দেশের কোন একক বীমা কোম্পানি একইসাথে লাইফ এবং নন-লাইফ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২৩টি বীমা কোম্পানি রয়েছে এবং তারা একই সাথে লাইফ এবং নন-লাইফ এর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। সুতরাং সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে এটি একটি কারণ হতে পারে বলে প্রতীয়মান। এছাড়া লয়েডস অব লন্ডনের একটি গবেষণা মতে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার অনুপাতে বীমা প্রোটেকশন গ্যাপ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশী। অথচ আমাদের দেশে দুর্যোগসহ নানাবিধ কারণে মানুষের জীবন ও সম্পদ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বীমা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। দেশে বীমা পেনিট্রেশন হার মাত্র .৫০ শতাংশ। বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো বীমা সুরক্ষার বাইরে। বর্তমানে যে সকল বীমা কোম্পানি বিদ্যমান তাদের কঠোর ও যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও তদারকির আওতায় নিয়ে এসে শুধুমাত্র মানসম্পন্ন বীমা কোম্পানিদেরকে বহাল রেখে, গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন পূর্বক আস্থা অর্জন করতে পারলে তাদের মাধ্যমে দেশের বীমার অভাব পূরণ ও বীমার পরিধি বিস্তার করা সম্ভব।
বর্তমানে প্রায় ৯/১০টা জীবন বীমা কোম্পানীর বেশ নাজুক অবস্থা, এ সময়ে আমাদের দেশের জীবন বীমা এবং এর অবস্থা অবস্থান ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
বর্তমানে ৯/১০টা জীবন বীমা কোম্পানিতে যে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তার পিছনে মালিকপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত প্রভাব, বীমাখাতে শৃঙ্খলার অভাব এবং শুরুর দিকে সঠিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকির অভাব অন্যতম। বর্তমানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ দ্বারা গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে দেশের বীমাখাতে পরিবর্তন সাধনের উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সঠিক পদক্ষেপের ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ড বৃদ্ধি, অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ হ্রাস, বীমাদাবি পরিশোধের হার তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতীয়মান। এইসব কোম্পানিগুলোর মধ্যে যেগুলোতে মাত্রারিক্ত অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে সেখানে বোর্ড অফ ডাইরেক্টর বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করে আইডিআরএ বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা সৃষ্টিতেও সচেষ্ট। যদিও উন্নতির জায়গায় একটা বড় সুযোগ রয়েছে বলে প্রতীয়মান। তাই বাংলাদেশে বিদ্যমান বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন, পর্যবেক্ষণ, তদারকি, শৃঙ্খলা ও কঠোর নিয়মনীতির আওতায়এনে পারিবারিক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাবমুক্ত করতে পারলে জীবন বীমা শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আমি অনেকটাই আশাবাদী।
প্রায় শতভাগ কোম্পানীই ডিজিটাল হওয়ার পথে, এতেকরে জনগনকে শতভাগ তথ্য আদান-প্রদানের ও লেনদেন নিশ্চিত করতে পারছে কি না এবং কোম্পানীগুলি কতটুকু উপকৃত রয়েছে বলে মনে করেন।
বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। ডিজিটালাইজেশন এবং অটোমেশনের ব্যবহারের ফলে কোম্পানীগুলোর ওভারহেড খরচসহ ভুলক্রটির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। ডিজিটালাইজেশনের ফলে বীমা কোম্পানীগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে; যে কারণে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ কমে আসছে। বর্তমানে অনেক কোম্পানিই ডিজিটাল লেনদেন এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও বীমা দাবি পরিশোধ করছে, এর ফলে প্রিমিয়াম সংগ্রহের ঝুঁকি ও বীমাদাবী সংগ্রহে গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে এসেছে। এছাড়াও ওয়েবসাইট, অ্যাপস, চ্যাটবট, এসএমএস সার্ভিস ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে তথ্য আদান প্রদান পূর্বের তুলনায় সহজতর ও গ্রাহক বান্ধব হয়েছে।
লাইফ ফান্ডের ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজনের কোম্পানীগুলি অনেক পিছিয়ে পড়ে আছে, কি কারনে তাদের এই অবস্থা বলে মনে করেন ?
তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করার বয়স আনুপাতিকভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের কোম্পানিগুলোর তুলনায় অনেক কম । এই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে বিপুল লাইফ ফান্ড সংগ্রহ করা অনেকটাই কঠিন। এছাড়াও তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অভাব, প্রায়শই মালিকপক্ষ কর্তৃক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লাইফ ফান্ডের ব্যবহার ও ভবিষ্যতে উদ্ভূত বীমাদাবি ও অন্যান্য খরচ বা দায় মোকাবেলায় সঠিক কর্ম্পন্থার অভাব লাইফ ফান্ডের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে বলে আমি মনে করি।
জীবন বীমার ক্ষেত্রে শিক্ষিত সমাজের অনিহার কারন কি কি এবং এই শিক্ষিত সমাজকে বীমার আওতায় আনতে হলে কি কি পদ্ধতি অবলম্বনের প্রয়োজন ?
জীবন বীমার ক্ষেত্রে শিক্ষিত সমাজের অনীহার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বীমাশিল্পে ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ন্যায় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অপর্যাপ্ততা, বীমার প্রয়োজনীয়তা ও সুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, বীমা নিয়ে সমাজে নেতিবাচক ধারণা, বীমা এজেন্টদের বীমা পলিসি সংক্রান্ত অপর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন এবং বীমা কোম্পানীগুলোর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতা ইত্যাদি। শিক্ষিত সমাজের মাঝে বীমা নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বীমার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে দরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে জাতীয় ভাবে বীমা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা উদ্যোগ গ্রহণ করা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বীমা কোম্পানীগুলোকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা, বীমাকর্মীদের ব্যপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, শুদ্ধাচার নীতির কঠোর জোড়ালো প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম জমার পরবর্তিতে ক্রমান্বয়ে ২য়/৩য়… প্রিমিয়াম সংগ্রহে কি কি সমস্যাগুলি তৈরি হয় ?
প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম জমার পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে দ্বিতীয় তৃতীয় বছর্রে প্রিমিয়াম বা রিনিউয়াল প্রিমিয়াম সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো দেখা যায় তা হল কাস্টমার সার্ভিস কর্তৃক বীমাগ্রাহকদের সাথে পর্যাপ্ত যোগাযোগের অভাব, রিনিউয়াল প্রিমিয়াম সংগ্রহে বীমাকর্মীরা কমিশন প্রাপ্তিতে তুলনামূলকভাবে কম কমিশন বা লাভবান হওয়ায় প্রিমিয়াম সংগ্রহে আগ্রহের অভাব, গ্রাহকদের অনেকক্ষেত্রে প্রিমিয়াম পরিশোধের সঠিক পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অবগত না থাকা ইত্যাদি।
পলিসি তামাদি হওয়ার কারনগুলি কি, এবং তামাদি পলিসি নিয়ে আপনাদের ও গ্রাহকদের কি কি সমস্যায় পড়তেহয় এবং পরিত্রানের উপায়কি ?
সঠিক সময়ে বীমা পলিসির প্রিমিয়াম পরিশোধ না করলে এবং পরবর্তীতে বীমাকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রিমিয়াম পরিশোধের জন্য নির্ধারিত অনুগ্রহকাল (Grace Period) অতিক্রান্ত হয়ে গেলে বীমা পলিসিটি তামাদি পলিসি হিসেবে গণ্য করা হয়। পলিসি তামাদি হওয়ার পিছনে অন্যতম কারণগুলো হল গ্রাহকদের সক্ষমতার বাইরে বীমা পলিসি গ্রহণে বাধ্য করা, বীমা এজেন্ট কর্তৃক গ্রাহক তদারকির অভাব, গ্রাহকদের সহিত যথাযথ যোগাযোগ রক্ষা না করা এবং গ্রাহকদের প্রিমিয়াম পরিশোধের সঠিক পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অবগত না থাকা ইত্যাদি। যেহেতু বীমা কোম্পানীর প্রথম বছরের প্রিমিয়ামের সিংহভাগই ব্যবসা অর্জনের খাতে খরচ হয়ে যায় সেহেতু পরবর্তী বছরের প্রিমিয়ামগুলোই বীমা কোম্পানির লাইফ ফান্ড তৈরি করতে সহায়তা করে। সেজন্য তামাদি পলিসি বেড়ে গেলে একটি বীমা কোম্পানির শক্তিশালী লাইফ ফান্ড গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অপরদিকে বীমাগ্রাহক বীমা সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। এক্ষেত্রে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে প্রয়োজন সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে গ্রাহককে উপযুক্ত বীমা পলিসি গ্রহণে সহায়তা করা, গ্রাহককে ডিজিটাল পদ্ধতি (ইএফটি) এর মাধ্যমে বীমা প্রিমিয়াম প্রদানে উদ্বুদ্ধ করা, কোম্পানী কর্তৃক বীমা এজেন্টদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান এবং সম্মানিত গ্রাহকগণেরও সময়মত প্রিমিয়াম পরিশোধের বিষয়ে সচেতন থাকা।
অর্থনীতির ৩০ দিন সম্পর্কে কিছু বলুন…
অর্থনীতির ৩০ দিন পত্রিকাটি (ম্যাগাজিন) দেশের ব্যাংক, বীমা, শিল্প বিষয়কসহ তথ্যবহুল অর্থনীতি, দেশ ও সমাজ উন্নয়নের পটভুমির উপর নির্ভরশীল সু-পরিছন্ন একটি পত্রিকা। সাহিত্য সাংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ একটি জ্ঞানের ভান্ডার হিসাবেও ভাল ভুমিকা রাখার এবং পড়ার মানসম্মত পত্রিকা । শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের নিকট পত্রিকাটির গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে বলে আশা করি।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই...
আপনাকে এবং অর্থনীতির ৩০ দিন পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ…










