

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
পিএসসিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তড়িগড়ি করে নিজের লোক নিয়োগ দিতে ১০ দিনে নিয়োগ পদ্ধতি সম্পাদন করার পায়তারা ঠিক সুযোগ বুঝে নির্বচনের আগে নিজের লোকজনকে নিয়োগ যেন গোলা পানিতে মাছ ধরার পদ্ধতি অবলম্বন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমের।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই ড. এম আসলাম আলম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লেও এসবের থোড়াই কেয়ার করেন এই আমলারূপি ধুর্তরাজ। ক্ষমতায় থাকাঅবস্থায় গত ৫ আগষ্ট দেশথেকে পালিয়ে যাওয়া প্যাসিবাদী হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা, আর্থিক সুবিধা দেয়ানেয়া, সুবিধায় প্লট আদায় করে নেওয়াসহ সম্প্রতি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদথেকে অপসারনের দাবীসহ হেন কোন কাজ নেই যা তাকে স্পর্শ করে নাই, তিনি ২০১২ সালের নভেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব হিসেবে যোগ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর ২০১৬ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকেও তাঁকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়। ড.এম আসলাম আলমের এসব কেলেঙ্কারি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ‘র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরেও অর্থনীতির ৩০ দিন এবং অর্থননীতির৩০দিনবিডি ডটকমসহ বিভিন্ন পত্র পএিকায় ফলাও কওর প্রকাশিত হয়, কিন্তু অদৃশ্য কারনে সবকিছুই যেন চোখের সামনে পর্দা টেনে দেওয়ার মতই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অদেখাই রয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে পিএসসি এর নিয়মনীতিকে অমান্য করে গোপন স্বার্থ হাসিলের মাধ্যমে তড়িগড়ি ‘নিজের লোক’ নিতে ১০ দিনে নিয়োগ দিতে চান বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম আসলাম আলম। ভোটের আগে দ্রুত নিয়োগের নামে ১০ কর্মদিবসে নিয়োগ দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। যেখানে বছরেও একটি নিয়োগ শেষ হওয়ার কথা নয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন এ প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের এপ্রিলে ষষ্ঠ, সপ্তম গ্রেডসহ ছয় ধরনের ১৯ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। দীর্ঘ সাড়ে আট মাস নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে কোনো ফাইলপত্র না নড়লেও হঠাৎই ভোটের তফসিলের পর চলতি জানুয়ারিতে মরিয়া হয়ে উঠে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। একজন সদস্যকে আহ্বায়ক, একজন উপসচিবকে সদস্যসচিব এবং একজন নির্বাহী পরিচালককে দিয়ে বাছাই কমিটি করে অল্প সময়ে নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কমিটিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন প্রতিনিধি, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের একজন প্রতিনিধি থাকলেও জনপ্রশাসন কোন কতৃপক্ষের উপস্খিতি পাওয়া যায় নাই। একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ মুহূর্তে মাত্র দুটি পদে ষষ্ঠ ও সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হবে ছয়জনকে। বাকি পদে এখন কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আইডিআরএর ভিতরে বিভিন্ন পর্যায়ে এ নিয়ে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লেও এদিকে অর্থমন্ত্রনালয় একরকম নিরব ভুমিকা পালন করছে। অপরদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকর মতামত অনুযায়ী যানা যায়, ‘এমন ধারাবাহিকতার নিয়মতান্ত্রিক কাজ মাত্র ১০ দিনে কীভাবে সম্ভব! তবু আমি খোঁজ নেব তারা আসলে কী করতে যাচ্ছেন বলে আশ্বস্থ করেন।’ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক বাছাই কমিটি গঠন করবে। কত সদস্যের বা কারা থাকবে তা স্পষ্ট নেই। এতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর বাতিল করা প্রবিধানমালার দুর্বলতা ফুটে উঠার সাথে সাথে উচ্চ আদালতের ১৩/০৮/২০২৪এর দেয়া সর্বশেষ জাজমেন্টকে (তথ্য সংরক্ষিত) অমান্য করায় এবং নিজেদের সুবিধার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিয়োগ-পদোন্নতি করতে বাছাই কমিটি একাধিক বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়োগের ক্ষেত্রে গত ১৯ জানুয়ারি প্রথম বৈঠক করে ৩১ জানুয়ারি পরীক্ষা এবং পর দিন মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ওই দিনই চূড়ান্তদের তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে পিএসসি সদস্যের আপত্তিও কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘একটা নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে যেখানে প্রায় ১(এক) বছরের বেশি সময় লেগে যায়, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও গত আট মাসে চুপ থেকে হঠাৎ করে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়োগ ধারাবাহিকতা ১০ দিনে শেষ করার অসৎ উদ্দেশ্য না থাকার যৌক্তিকতা কি তা প্রশ্নবিদ্ধ?’ তারা বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির কয়েকটি পদে চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোক আছে। প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মাত্র ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান। আপত্তির মুখে সেটি ৯০ নম্বরের করা হয়েছে, মৌখিকে মাত্র ১০ নম্বর। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েই ষষ্ঠ ও সপ্তম গ্রেডের অফিসার হবেন!’ চাকরি বিধিবিধান বিশেষজ্ঞ মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘একটা নিয়োগে প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার আগে কমপক্ষে ১৫ কর্মদিবস সময় দিতে হবে। এটা স্ট্যান্ডার্ড, আরেকটু বেশি দিতে পারলে ভালো। তা না হলে সংক্ষুব্ধ যেকোনো প্রার্থী বলতে পারেন-আমাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। এতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে। অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে মাত্র ১০ দিনে সব শেষ করা-এমন নজির বাংলাদেশে এখনো হয়নি।’ উল্লেখ্য, আইডিআরএ চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক সিনিয়র সচিব এম আসলাম আলমকে তিন বছর বা তাঁর বয়স ৬৭ বছর পূর্তির মধ্যে যেটি আগে, সেই সময় পর্যন্ত এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।












