প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ৫.৬

নির্বাচনী বছরে উন্নয়নী বাজেট
বাংলাদেশ উন্নয়নের রোডমেপে আছে আর এ উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনাকে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব দিয়ে বড় আশা আকাক্সক্ষা ও নির্বাচনী বছরে মানুষকে আয়-ব্যয়ের স্বস্তি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত এ ব্যয় বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি।
উন্নয়নের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে সোনালি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়েছে সরকার। যেন নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে চাপে না পড়তে হয় সাধারণ জনগণ। এটা বর্তমান সরকারের দূরদর্শী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প সূচক জানুয়ারি ২০১৭ এর তুলনায় জানুয়ারি ২০১৮ সময়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে। বন্যার কারণে অর্থবছরের প্রথমদিকে কৃষিখাতে উৎপাদন ব্যাহত হলেও ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমের প্রভাবে আমন ও বোরোর উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। সার্বিকভাবে, চলতি অর্থবছরে ৪০৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। সামনে বন্যা বা প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না হলে উতপাদনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
উপুর্যপরি অন্যদিকে, ব্যক্তিগত ভোগ ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী হয়েছে যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবৃদ্ধির উপর। তদুপরি, বৈশ্বিক পরিমন্ডলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্যে প্রাণসঞ্চারের ফলে আমাদের রফতানি, প্রবাস আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও অনেকবেশি দেখা যাচ্ছে, যা আমাদের প্রবৃদ্ধির উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা একটা উন্নয়নশীল দেশের জন্য খুবিই আশাব্যঞ্জক।
কৃষিপণ্যের উচ্চ ফলন ও স্বাভাবিক সরবরাহ পরিস্থিতির সুবাদে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী হলেও বিশ্ব পণ্য বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আমাদের দেশের খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এপ্রিল ২০১৮ সময়ে বারো মাসের গড় হিসাবে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যার মধ্যে খাদ্য ৭ দশমিক ৩ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
চলতি বাজেটে জলবায়ু খাতে ১৮ হাজার ৯৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জিডিপির শতকরা ০.৭৫ ভাগ। বাজেটে জলবায়ু সুরক্ষা ও উন্নয়নে সরকারের ২০টি মন্ত্রণালয়ের ব্যয় উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রকল্প ও কাজে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এরমধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বাবদ সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অবকাঠামো এবং সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে। তাছাড়া আরও বরাদ্দ পেয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের সামগ্রিক ঝুঁকিসমূহ, জলবায়ু পরিবর্তনের সংশ্লিষ্ট কনভেনশন, প্রটোকল, চুক্তি, আইন ও নীতি সমূহ, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন দৃশ্যপট ইত্যাদি। এছাড়া এবার মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দের হিসাবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২৭১ কোটি ৫ লাখ টাকা। যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ১৫০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বেশি। এই ব্যয় বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। সামনের দিকে প্রতিটি বাজেটে জলবায়ু খাতে সরকারের ব্যয়ের এ হিসাব তৈরি করা এবং এটাকে সফল বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের একটা অসামান্য অর্জন।
আমরা আশা করব নির্বচনী বছরে সরকারেরএই বাজেট লক্ষমাত্রা দেশের ১৭ কোটি জনগণের আয়ব্যয়ের ভারসাম্যকে রক্ষা করে দ্রব্যমূল্যের কষাঘাত থেকে উত্তরণ করে উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন জাপনের মূল্যবোধে নিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা।